দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে কয়েক মাস আগে। এ দীর্ঘ সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। নিয়োজিত থেকেছেন সরকারের নির্দেশ মতো কাজ করতে আর স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুকের দিন-রাত কেটে যাচ্ছে করোনা মোকাবিলায়। তার নির্দেশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে থানা পুলিশ।
তবে দিন যত যাচ্ছে করোনা শনাক্তের সংখ্যা তত বাড়ছে সিদ্ধিরগঞ্জে। সে সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আরো সক্রিয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক।
তিনি জানান, করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাননি। ঈদের দিনও যেতে পারেননি পরিবারের কাছে।
পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে, মধ্যবিত্ত, দিনমুজুর, অসহায় খেটেখাওয়া মানুষদের ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা যাতে নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেজন্য ওসি কামরুল ফারুক, একধিকবার থানার পুলিশ সদস্যদের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী, পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করেছেন। থানা ভবনের সামনে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, বৈশ্বিক সমস্যা করোনাে সংক্রমণ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে মুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আইজিপি ও ডিআইজির নির্দেশক্রমে এবং বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আমার সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন এই মহামারী থাকবে ততদিন আমি আমার কাজ অব্যাহত রাখব। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানবসেবায় নিয়োজিত থাকব।
কামরুল ফারুক বলেন, মার্চ মাসে দেশে করোনার সক্রমণ শুরু হওয়ার পর তার এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে স্ত্রী ময়মনসিংহের গফরগাঁওতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। ঈদেও যেতে পারিনি দায়িত্ব ছেড়ে। ফোনে নিয়মিত যোগাযোগই এখন একমাত্র উপায়।
