কমলগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতার করোনা জয়

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ১২:০৭ এএম

পিতৃহারা অর্পিতা দত্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে শমশেরনগর শাহীন কলেজ সংলগ্ন সবুজভাগ আবাসিক এলাকায় মা ও এক ভাইকে নিয়ে মামার বাড়ি থেকে পড়াশুনা করে আসছে।

তার মামা বিজিৎ পাল কলেজ শিক্ষক গত ১৬ মে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে ২১ মে প্রাপ্ত ফলাফলে করোনা শনাক্ত হয়। তার মামা দ্বিতীয় দফায় ২৮ মে ফলোআপ নমুনা দিয়ে ৩১ মে ফলাফলে আবারও করোনা পজেটিভ হলে মামার দ্বারা অর্পিতা দত্ত ও তার মামী সীমা দেব করোনায় আক্রান্ত হয়। 

অর্পিতা দত্ত করোনা পজেটিভ হয়ে মনোবল ভেঙ্গে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে বাসায় আলাদা কক্ষে আইসোলেশনে থেকে মামা শিক্ষক বিজিৎ পাল ও মামী সীমা দেবের সাথে দৃঢ় মনোবলে টেলি মেডিসিনে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে নিয়মমাফিক চলে শুক্রবার কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলমের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে করোনা জয় করেছে অর্পিতা।

শনিবার করোনা জয়ী অর্পিতা দত্ত দেশ রূপান্তরকে জানায়, গত মে মাসের ১৬ তারিখ তার মামা শিক্ষক বিজিৎ পাল করোনার নমুনা দিয়েছিলেন। ২১ মে তিনি জানতে পারেন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। তারপর তিনি বাসার একটি কক্ষে আইসোলেশনে থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিয়মমাফিক চলেন। ২৮ মে আবার ফলোআপ নমুনা দিয়েছিলেন মামা। সেদিন বাসার সদস্য হিসেবে সে ও তার মামী সীমা দেব করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়েছিলেন। ৩১ মে এর ফলাফলে দেখা যায় মামা বিজিৎ পাল করোনা নেগেটিভ হলেও সে (অর্পিতা) ও মামী সীমা দেব করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

অর্পিতা বলেন, তখন মামা নিজে আইসোলেশনে থেকে ও আমাদের আলাদা কক্ষে আইসোলেশনে রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিয়মমাফিক চলতে বলেন। এর মাঝে ২ ও ৩ জুন মামার মত শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ  মেনে লেবু দিয়ে ফুটানো গরম পানির বাষ্প নিয়ে, গরম পানি দিয়ে গলা গড়গড়া করা, আদা, দারুচিনি, লবঙ্গ ও তেজপাতা দিয়ে রং চা পান করতে থাকি। প্রাথমিকভাবে সে সমস্যা সহজ মনে হলেও মোকাবেলা করতে কষ্ট হয়েছে।  সবার দোয়া ও আশির্বাদে ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ্য হয়ে উঠেছি। 

এরপর গত ৪ জুন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ফলাফল আসে ১৩ জুন। তখন দেখা যায় সে (অর্পিতা) ও তার মামী সীমা দেব করোনা নেগিটিভ হলেও আবার মামা শিক্ষক বিজিৎ পাল করোনা পজেটিভ হয়েছেন। তবে তারা সবাই আবারও হোম আইসোলেশনে থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলায় ও মামা বিজিৎ পাল আবারও ফলোআপ নমুনা দিলে ২৬ জুন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূইয়া অর্পিতা দত্ত, তার মামা শিক্ষক বিজিৎ পাল ও মামী সীমা দেবকে করোনা নেগিটিভ জানিয়ে করোনা জয়ী ঘোষণা করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত