ব্লাঁ’র গোল্ডেন গোলে বিশ্বকাপ জয়ের পথে হাঁটে ফ্রান্স

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ০৭:২৬ এএম

১৯৯৮-তে বিশ্বকাপের গেরো খুলেছিল ফ্রান্স। সেই টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন কে? অবশ্য লরাঁ ব্লাঁ। প্যারাগুয়ে এবং ইতালির বিরুদ্ধে তার গোল দলকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। এটুকু বললে কিছুই বলা হয় না। সেই বিশ্বকাপে প্রথম গোল্ডেন গোল করেছিলেন ব্লাঁ। ১৯৯৮’র ২৮ জুন ব্লাঁ সেই গোলটি না করলে শেষ ষোল’র বাধা কি টপকাতে পারত ফ্রান্স? আর না পারলে তো বিশ্বকাপটাও দিদিয়ের দেশঁ’র হাতে উঠত না।

আরও একটা গোল্ডেন গোল ফ্রান্সকে বড় শিরোপা এনে দিয়েছিল। ডেভিড ত্রেজেগের কথা মনে পড়ে? ৯৮-র বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলে ছিলেন। থিয়েরি অঁরির সঙ্গে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতেন। বিশ্বকাপে ফর্মে থাকলেও তেমনভাবে গোল পাননি। তবে দু’বছর পর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তার গোল্ডেন গোলেই ট্রফি জেতে ফ্রান্স। মজার ব্যাপার হলো ত্রেজেগের বিরাট সফল ক্যারিয়ারে ব্যর্থতাও কম নেই। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন। ইতালির কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল ফ্রান্স। প্রবল সমালোচনার মুখে ত্রেজেগে বলেন, ‘কেউ ইচ্ছে করে পেনাল্টি নষ্ট করে না। পেনাল্টিতে গোল করার মতোই মিসটাও খেলার অঙ্গ। কোনো দুঃখ নেই। কত কী-ই তো হয় না।’ জার্মানির সেই বিশ্বকাপ জিদানের ঢুস কা-ের জন্যও বিখ্যাত হয়ে আছে। কী কাকতাল দেখুন, যে ত্রেজেগের পেনাল্টি মিসে ইতালির কাছে বিশ্বকাপ হারিয়েছিল ফ্রান্স, সেই তিনিই ৬ বছর আগে ইউরো জিতিয়েছিলেন। ২০০০ ইউরো ফাইনালে ত্রেজেগের সোনালি গোলে ফ্রান্স হারিয়েছিল ইতালিকে। ওটা ফুটবলজীবনের সেরা দিন কি-না জিজ্ঞেস করায় ত্রেজেগে বলেছিলেন, ‘ না, সেটাও নয়। ৯৮-র বিশ্বকাপ জেতার দিনটাই জীবনের সেরা। ফুটবলে ওটাই তো সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। তবে ইউরো জেতার গোল্ডেন গোলটা আমার সেরা গোল। গোলটা না করলে ফ্রান্স হয়তো সেবার ইউরো জিততো না।’

বোঝাই যাচ্ছে ফুটবলে ফরাসি বিপ্লবের পেছনে গোল্ডেন গোলের গুরুত্ব অপরিসীম। একবার খোঁজ নিয়ে দেখা যাক কবে কোন দলের জয়ে গুরুত্ব রেখেছিল গোল্ডেন গোল। ফুটবলে এই নিয়ম চালু হয় ১৮৬৭ সালে ইংল্যান্ডে। ইয়ুডান কাপে নিয়ম করা হয় নব্বই মিনিটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত না হলে গোল্ডেন গোল হবে। অতিরিক্ত সময়ে যে দল আগে গোল করবে তারাই জিতবে।

অনেক সময় পেরিয়ে ফিফা এই নিয়ম চালু করে ১৯৯৩ সালে। সেই সময় পেনাল্টি শুটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল ফুটবলে। সেই প্রভাব কাটাতে সিদ্ধান্ত হয় অতিরিক্ত সময়ে গোল হলেই জিতে যাবে সেই দল। গোল না হলে অগত্যা পেনাল্টি শুটআউট, মানে ভাগ্যের খেলা। ১৯৯৬’র ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়ম চালু হলো। এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে বোঝা গেল গোল্ডেন গোলের গুরুত্ব।

ফিফা অয়োজিত বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম গোল্ডেন গোলে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়ী হয় অস্ট্রেলিয়া। ওটা ছিল ১৯৯৩’র ১৩ মার্চের ঘটনা। ১৯৯৫-তে ইংল্যান্ডের ফুটবল লিগ ট্রফির শিরোপা নির্ধারণ হয়েছিল গোল্ডেন গোলে। এরপর ১৯৯৬’র ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়শিপ ফাইনালে চেক রিপাবলিককে গোল্ডেন গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে জার্মানি। গোলটি করেন অলিভার বিয়েরহফ।

এরপর ৯৮-এর সেই বিশ্বকাপ। ২৮ জুন গোলশূন্য ৯০ মিনিটের পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৪ মিনিটে করা গোলে শেষ ষোলতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়ী হয় ফ্রান্স। ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে পরে বিশ্বকাপ জেতে। ৪ বছর পর ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচ গোল্ডেন গোলে শেষ হয়েছিল। ১৬ জুন হেনরি কামারার ১০৪ মিনিটের করা গোল্ডেন গোলে সুইডেনকে হারায় সেনেগাল। দু’দিন পর প্রো-কোয়ার্টারের আরেক ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার আন জুং-হানের গোলে বিদায় নেয় ইতালি। আর কোয়ার্টার ফাইনালে তুরস্ক গোল্ডেন গোলে বিদায় করেছিল ওই বিশ্বকাপে শোরগোল ফেলে দেওয়া সেনেগালকে।

ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের তিনটি ম্যাচের ভাগ্যও নির্ধারিত হয়েছে গোল্ডেন গোলে। ২০০৩ সালের ২৯ জুন থিয়েরি অঁরির গোলে ফ্রান্স শিরোপা জিতেছিল ক্যামেরুনের বিপক্ষে। পুরুষদের টুর্নামেন্টে গোল্ডেন গোলের নিয়ম সেই টুর্নামেন্টেই শেষবার প্রয়োগ হয়। নারী বিশ্বকাপে জার্মানির নিয়া কুনজের গোল্ডেন গোলে পরাজিত হয়েছিল সুইডেন। ওটাই ফিফা বিশ্বকাপের শেষ গোল্ডেন গোল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত