ইউনানি থেকে পাশ করে ১২ বছর ধরে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ০৮:২৪ পিএম

ইউনানি থেকে পড়াশোনা করেছেন, অথচ চিকিৎসা করেন হৃদরোগ, লিভার, জন্ডিস, বাতজ্বরের মতো কঠিন রোগের। করেন হার্ট সার্জারিও।

মিজানুর রহমান নামে ওই চিকিৎসক রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এভাবে প্রতারণামূলকভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার।

ইউনানির সনদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেওয়ার দায়ে মিজানুর রহমানকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালককে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য রাখার দায়ে হাসপাতালের ফার্মেসিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালে অনিয়মের খোঁজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যাব ৩। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু।

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিজানুর রহমান ইউনানি প্রাক্টিশনার বা হেকিম। কিন্তু তার কাছে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, পিএইচডিসহ নানান সার্টিফিকেট আছে। তার পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি ইউনানি পড়ে অ্যালোপ্যাথিক মেডিসিনে প্রেসক্রাইব করতেন। কিন্তু তিনি অ্যালোপ্যাথিকে চিকিৎসা এবং ডাক্তার পরিচয় দিতে পারেন না। যেহেতু তিনি ইউনানি সনদধারী সেহেতু তিনি হেকিম পরিচয় দিতে পারেন। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতো রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতেন।

এ জন্য মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সহকারী সুপার হাসিনুর রহমানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালের ফার্মেসিতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য পাওয়ায় ফার্মেসির শফিউল ইসলাম ও আব্দুল জলিলকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত