টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সিরাজগঞ্জ শহর পয়েন্টে মঙ্গলবার দুপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯ সেন্টিমিটারে দাঁড়িয়েছে।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গণ। ডুবে গেছে পাট, তিল, আখ, ভুট্টা, তীল, বাদাম ও সবজিক্ষেত।
এ দিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি,গালা, জালালপুর, খুকনি ও সোনাতনী ইউনিয়নের প্রায় ১৮টি গ্রামে যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের অব্যহত ভাঙ্গণে এ সব এলাকার অন্তত ২০০ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ ভাঙ্গণের তান্ডবে বিলিনের পথে সোনাতনী ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্যের পাকা ভবন মাত্র ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ চরাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায়, এলাকাবাসি ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ির ঘরের টিন নৌকায় করে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বাড়িঘর হারানো মানুষের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ভাঙ্গণ রোধে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আশা করছি অচিরেই তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন।
