যশোরে পৃথক ঘটনায় খুন হয়েছেন দুই ব্যক্তি। কেশবপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় মঙ্গলবার সকালে ও সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, কেশবপুরের দোরমুটিয়া গ্রামের কওছার আলীর সাথে বসতভিটার জমি নিয়ে ভাই মকছেদ আলীর বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মকছেদ আলী বাড়ি নির্মাণের কাজ করতে গেলে বাধা দেয় বড়ভাই কওছার আলী। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কাওছার আলীর মাথায় আঘাত করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোনিয়া আক্তার জানান, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কাওছার আলীকে ধাক্কা দিলে তিনি ইটের ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হন।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে মকছেদ আলীর স্ত্রী শেফালী বেগমকে আটক করেছে বলে জানান কেশবপুর থানার ওসি জসিমউদ্দীন জানান।
অপরদিকে, বাঘারপাড়ায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম রিপন হোসেন (৩০)। অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেনকে (৩৫) আটক করেছে থানা পুলিশ। তারা দুইজন উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে।
নিহত রিপনের স্ত্রী সুকুরন খাতুন জানান, তার ভাসুর বিপ্লব হোসেন প্রায় নেশা করে বাড়িতে ঢুকতেন। এ নিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে গণ্ডগোল হতো। সোমবার রাত ১২টার দিকে রিপন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হন। এ সময় তার বড় ভাই বিপ্লব টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে রিপনের মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে রিপন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহ আলম রুবেল বলেন, রাত একটার দিকে রিপনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর আগেই তার মৃত্যু হয়। তার ডান কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল। বাম চোখের নিচে রক্ত জমে ছিল।
বাঘারপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এছাড়া অভিযুক্ত ভাই বিপ্লবকে মঙ্গলবার সকালে পাশের জামালপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে।
