তেঁতুলিয়ায় গবাদিপশুর ‘লাম্পি’ রোগের সংক্রমণ বাড়ছে

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ০১:৪০ এএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গবাদিপশুর মধ্যে লাম্পি নামের এক ভাইরাস (লাম্পি স্কিন ডিজিজ-এলএসডি ভাইরাস) ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সহস্রাধিক গরু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে গবাদিপশু নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এ ভাইরাসের ওষুধ না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

গতকাল বুধবার দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন দিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া, কানকাটা, শারিয়াল ও শালবাহান ইউনিয়নের বালাবাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামে সহস্রাধিক গরু ভাইরাসজনিত লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আগে এরকম রোগের দেখা মেলার কথা বলতে পারছেন না কৃষকরা। আক্রান্ত গরু চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রোগটি ‘লাম্পি ভাইরাস’ বলে শনাক্ত করেন।

কানকাটা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম দেওয়ান এ রোগের লক্ষণ বর্ণনা করে জানান, তার তিনটি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে গরু জ¦রে আক্রান্ত হয়। জ¦রের সঙ্গে মুখ এবং নাক দিয়ে লালা আসে। শরীরের চামড়ায় গুটি আকৃতির ক্ষত ধারণ করে। পরে পুরো শরীরে গুটিগুটি বসন্তের মতো দেখা যায়। আর ক্ষতগুলো ক্রমশ মুখ এবং পাসহ শরীরের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। গরু কিছু খেতে পারে না, হাঁটতেও পারে না।

দর্জিপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন ও রইচ মিয়া জানান, তাদের তিনটি গরু এ রোগে আক্রান্ত। পল্লী চিকিৎসক ডেকে এনে গরুকে ওষুধ খাইয়েছেন। এতে অনেকের দুই-তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে।

শালবাহান ইউনিয়নের কৃষক নাজমুল হক জানান, এই রোগে আক্রান্ত গরু মুখে কোনো খাবার নিতে চায় না। এক পর্যায়ে গরুগুলো মারাত্মক দুর্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

এদিকে বাজারে এ রোগের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। পেলেও সে ওষুধের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দাম নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী মাহবুবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, রোগটি লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাস নামে পরিচিত। এটি চর্মরোগ। সময়মতো আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা হলে দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে উপজেলায় দুই হাজারেরও বেশি ‘গোটপক্স’ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত