করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকেই দেশে বেড়েই চলেছে জীবাণুনাশক পণ্যের চাহিদা। এ পরিস্থিতিতে কাঁচামাল সংকটের কারণে শীর্ষস্থানীয় দুটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বলছে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না।
এই সব পণ্য ৪/৫ গুন বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও এসেছে এবং কয়েকটি জায়গায় এ কারণে ব্যবসায়ীদের জরিমানা গুণতে হয়েছে।
এক পর্যায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে সাতটি কোম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম পর্যন্ত বেঁধে দিতে হয়েছে।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, করোনার কারণে সৌন্দর্য সাবান আর কাপড় ধোয়ার সাবানের বিক্রির পাশাপাশি ব্যাপক বেড়েছে অ্যান্টিসেপটিক সাবানেরও। এর বাইরে হ্যান্ড রাব ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার বেড়েছে অনেক গুন।
একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, জীবাণুনাশক সাবানসহ সব ধরণের পণ্যের বার্ষিক বাজার সর্বোচ্চ পাচশ কোটি টাকার মতো ছিল, যা এবার বছর শেষ ৫-৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে ধারণা করছেন তারা।
জীবাণুনাশক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হলো স্কয়ার, এসিআই, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা, ক্লিনজেল, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ও অপসোনিন। এর মধ্যে এসিআইয়ের স্যাভলন বা হেক্সাসল এবং স্কয়ারের সেপনিল স্যানিটাইজারের বিক্রি বেড়েছে কয়েকশ' গুন।
স্কয়ার টয়লেট্রিজের হেড অব মার্কেটিং জেসমিন জামান জানান, আগে বছরে ১৫-২০ টন উৎপাদন ও বাজারজাত করতেন এখন সেই পণ্য প্রতিদিন ৬০-৭০টন বাজারে সরবরাহ করতে হচ্ছে।
হ্যান্ড ওয়াশের চাহিদা বেড়েছে ৪/৫ গুন আর জীবাণুনাশক অন্য পণ্য গুলোর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুন। তিনি বলেন, “আমরা আসলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহও করতে পারছি না। কারণ কারখানা ও কাঁচামালের ব্যাপার আছে। তবে বাজার চাহিদা মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
এসিআই কনজ্যুমার ব্রান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর বলছেন তাদের স্যাভলন লিকুইড ও এন্টিসেপটিক ক্রিমের বাজার কোভিড ১৯ মহামারির আগে ছিল ৩৪ কোটি টাকার মতো। বলেন, “আগে দরকার ছিলো দশ লাখ মানুষের। এখন দরকার হচ্ছে ১৭ কোটি মানুষের। সুতরাং চাহিদাটা কেমন হয়েছে বুঝতেই পারছেন।”
আরও জানান, করোনায় চাহিদা অনুযায়ী তারা সরবরাহ দিতে পারেননি। কারণ তারা আগে থেকেই এমন পরিস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করতে পারেননি। বলেন, “তাছাড়া লকডাউন ও ছুটির কারণে কন্টেইনারসহ নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছিল না। আবার যেসব দেশ থেকে কাঁচামাল এনে থাকি সেসব দেশেও করোনা। ফলে কাঁচামাল সংকট। তবে আমরা আশা করছি সামনের কয়েক সপ্তাহে উৎপাদন আরও অনেক গুন বাড়াতে পারবো আমরা।”
এ দুটি প্রতিষ্ঠানেই কাজ করেছেন এমন একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে করোনার আগে জীবাণুনাশক পণ্যের বাজার ছিলো ৫শ’ কোটি টাকার মতো। আমাদের যে অ্যাসেসমেন্ট তাতে এখন এটি অন্তত আট হাজার কোটি টাকার বাজার। ফলে ক্যাপাসিটিও বাড়াতে হচ্ছে।
