পুরোপুরি সুরক্ষা নয় করোনায় ‘গুরুতর অসুস্থতা ঠেকাবে’ অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ০৯:০২ পিএম

নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধের আশা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি যে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালাচ্ছে সেটি গুরুতর অসুস্থতা ঠেকাতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভ্যাকসিন টাস্কফোর্সের প্রধান কেট বিংহ্যাম।

গার্ডিয়ানকে কেট বলেছেন, অক্সফোর্ডের তৈরি প্রথম ভ্যাকসিনটি কভিড-১৯ রোগের উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করবে। এতে করে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের গুরুতর অসুস্থ হওয়া কমতে পারে। তবে এই ভ্যাকসিন দিয়ে মানুষকে করোনাভাইরাস থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না।

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটির নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট। তিনি বলছেন, ‘আমি আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উন্নত ভ্যাকসিন তৈরি করা যাবে এবং এটি মানুষকে রক্ষা করবে।’

ভ্যাকসিন বা টিকা মূলত কোনো রোগকে প্রতিরোধ করার জন্য শরীরে দেয়া হয়। অধিকাংশ ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট ভাইরাসের দুর্বল ভার্সনে তৈরি করে প্রয়োগ করা হয়। কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হলেও অসুস্থ হওয়ার আগেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে রোগটি ছড়ায় না।

কিন্তু কেট বিংহ্যাম যেটা বলছেন তাতে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে পুরোপুরি সুরক্ষা দেবে না। অর্থাৎ সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাবে।

যদি এমন হয় তাহলে ভ্যাকসিনটি এমএমআর (মিজলস, মাম্পস, রুবেলা ) ভ্যাকসিনের মতো হতে পারে। এই ভ্যাকসিনে তিনটি রোগ প্রতিরোধের ‘প্রায় শতভাগ’ নিশ্চয়তা থাকলেও শতভাগ থাকে না।

গোটা পৃথিবীতে বিভিন্ন কোম্পানির ১৪০টি ভ্যাকসিন ট্রায়ালে আছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আছে ১১টি কোম্পানি। দ্বিতীয় ধাপে আটটি। তৃতীয় ধাপে তিনটি। আর অনুমোদন পেয়েছে একটি কোম্পানি।

অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিটি চীনের। দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যবহারের জন্য ‘বিশেষ অনুমোদন’ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের টিকা যে পর্যায়ে আছে

তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে থাকা তিনটি ভ্যাকসিনের একটি অক্সফোর্ডের। ব্রাজিলে তারা এই ধাপের কার্যক্রম শুরু করেছে।

এই ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক স্যার জন বেল জানিয়েছেন, সামনের বড়দিনের আগেই গোটা ব্রিটেনে তারা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে চান।

নতুন ভ্যাকসিন অধিকাংশ সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দেয় না। এক্ষেত্রে সেটি হলে পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হতে পারে। ডোজের মাত্রা পাল্টানো হতে পারে। অথবা প্রোগ্রামটি বন্ধ করা হতে পারে।

অক্সফোর্ডের ট্রায়াল ব্যর্থ হলেও চিন্তিত নন জন বেল। তিনি বলেছেন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা সম্ভব, ‘অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ব্যর্থ হলে আমরা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনবো। কোনো না কোনো ভাবে সফলতা আসবেই। সেপ্টেম্বর/অক্টোবরের মধ্যে এটি নিশ্চিত হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত