বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ২ শতাধিক মানুষের মানবেতর জীবন-যাপন

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ০৪:২০ পিএম

বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বানভাসি মানুষের। উপরন্তু বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া কৈজুরি, জালালপুর, খুকনি, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের ২ শতাধিক মানুষ গরু, ছাগল, ভেড়া নিয়ে এনায়েতপুর-ভেড়াকোলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে মানুষ ও গবাদিপশু এক কুড়েঘরে বাস করছে।

বন্যার পানিতে ডুবে আছে উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম। এর মধ্যে গালা ইউনিয়নের হাতকোড়া, বৃ-হাতকোড়া, মোহনপুর, রতনদিয়া, গোপালপুর, ধলাই গ্রামের সবগুলো বাড়িঘর ও বিনটিয়া, তারটিয়া, কাশিপুর গ্রামের অধিকাংশ, সোনাতনী ইউনিয়নের বাঙ্গালা, আগবাঙ্গালা গ্রামের সবগুলো বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

বন্যাদূর্গত ও পানিবন্দি এসব গ্রামের শত শত মানুষের ঘরে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া কৈজুরি, জালালপুর, খুকনি, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হওয়ায় ২ শতাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিষয়ে গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্ত এখনও কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পেলে বন্যাদূর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ শহরের যমুনা নদীর পানি কছিুটা কমেছে। তবে এখনও বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে নিম্নাঞ্চলের ২১৬টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) জানায়, সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে শনিবার সকালে যমুনার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭০ মিটার।

এতে করে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে এখনও বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। (বিপদসীমা ১৩দশমিক ৩৫মিটার)

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত কুমার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও কমতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানা গেছে।

এদিকে এক টানা ছয় দিন সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, চৌহালী, বেলকুচি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনিত হয়েছে।

যমুনা নদীর পানি বাড়া-কমার সাথে সাথে  নদী ভাঙনে যমুনা পাড়ের মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত