রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকল বন্ধ না করে আধুনিকায়ন করা, করোনা সময়ে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি এবং অব্যবস্থানা দূর করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে হয়রানি বন্ধ করার দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বরিশাল জেলা সংসদ ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সোমবার দুপুর ১২টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হল সম্মুখ সদররোডে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে মানুষ যখন চরম দুঃসময়ের মধ্যে রয়েছে। তখন স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে করোনা ওয়ার্ডসহ হাসপাতালগুলোতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না। পর্যাপ্ত জনবল নেই। চিকিৎসা সামগ্রীর সংকটও প্রকট।
দেশের করোনা ওয়ার্ডগুলোতে সাধারণ রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছে না। সময় মতো রোগীর অক্সিজেন এবং আইসিইউ সাপোর্ট না দেওয়ায় মৃত্যুর হার বাড়ছে। একই সঙ্গে এই করোনর মধ্যেও হাসপাতলগুলোতে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ক্রয়ে আর্থিক অনিয়র এবং দুর্নীতি বাড়ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বরং তিনি উল্টো কথা বলছেন। এ রকম একজন অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বক্তারা বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একজন দক্ষ ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে ঘটে যাওয়া অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যে মানুষ যখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে, সেই মুহূর্তে সরকার দেশের সরকারি পাটকলগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
ইতিমধ্যে ওইসব পাটকলের শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। যখন দেশের বেসরকারি পাটকলগুলো ব্যবসা সফল হচ্ছে সেই সময়ে সরকারি পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনভাবেই কাম্য নয়।
সরকার পাটকল আধুনিকায়ন করার জন্য নাকি বন্ধ ঘোষণা করছে। যদি আধুনিকায়ন করার ইচ্ছা থাকে তাহলে তো পাটকল চালু রেখেই সেটা করা সম্ভব। বাস্তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার জন্যই সরকারি পাটকল বন্ধের নুতন চক্রান্ত।
এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।
অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এই আইনের আওতায় সারা দেশে গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হয়রানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা গ্রেপ্তার ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার আহ্বান জানায় বক্তারা।
প্রতিবাদী কর্মসূচি থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থপনা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার ও নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অ্যাড, বিশ্বনাথ দাশ মুনশি, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিম-লীর সদস্য আজমল হোসেন লাবু প্রমুখ।
