পরিবার লাশ নেয়নি, ফ্যাক্টরি মালিকের সহায়তায় সৎকার করল কোয়ান্টাম

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৯:০৯ পিএম

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে এক যুবকের লাশ ১৮ ঘণ্টা পড়ে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার পরও ওই যুবকের মৃত্যু সনদে মুসলিম নাম দেয়ায় সৎকারেও এগিয়ে আসেনি কেউ।

ওই যুবকের নাম সুজন কালিন্দী (২৫)। তিনি সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় আলফা ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির পানি রিকশা ভ্যানে করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করতেন। থাকতেন রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়ির মেসে।

দিন দশেক আগে সুজনের করোনার উপসর্গ  দেখা দেয়। বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। রবিবার রাতে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে আলফা ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির মালিক সাইফুল ইসলামের কাছে খবর দেওয়া হয়। তিনি একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠান সুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। রাত ১ টার দিকে সুজনকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পথে গাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।  এরপর লাশসহ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। রাতেই ফ্যাক্টরির মালিক মোবাইল ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর দেন সুজনের বাবার কাছে। লাশ সৎকারের জন্য ঢাকায় আসতে বলেন।

সুজনের বাবা বকুল কালিন্দী পেশায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইস্পাহানি চা বাগানের শ্রমিক তিনি। বাগানের ভেতর শ্রমিকদের থাকার টিন শেড ঘরে পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। বছরখানেক আগে সুজন বিয়ে করে। করোনার সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগে মার্চ মাসে ঢাকায় এসে সুজন আলফা ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানায় চাকরি নিয়েছিল।

করোনায় সুজনের মৃত্যু সংবাদ শুনে পিতা বকুল জানালেন, তিনি লাশ নেবেন না। লাশ দেখতে ঢাকায়ও আসবেন না। করোনার এই সময়ে লাশ ঢাকা থেকে আনতে অন্তত ১০ হাজার টাকা খরচ। এই টাকা তারা কোথায় পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এতে চিন্তায় পড়েন আলফা ড্রিকিংয়ের মালিক সাইফুল ইসলাম। সকালে তিনি আসেন হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর সুজনের লাশ রাখা ছিল। হাসপাতালের মৃত্যু সনদে লেখা ছিল মো. সুজন। হিন্দু ধর্মাবলম্বী সুজনের এই নাম দেখে কেউই লাশের সৎকার করতে এগিয়ে আসেনি। বিভিন্নস্থানে যোগাযোগ করেও সাইফুল কাউকে লাশ সৎকারে রাজি করাতে পারেননি। প্রত্যেকেই বলে দেয় যে মৃত্যু সনদ সংশোধন না হলে তারা এই লাশ সৎকার করতে পারবে না। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে সুজনের প্রকৃত নাম সুজন কালন্দী লিখিয়ে মৃত্যু সনদ আনেন সাইফুল। থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া লাশ সৎকার করার উপায় নেই।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টিম তার ভাড়া মেসে গিয়ে সন্ধান চালায়। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে বিষয়টি জানানো হয়। এ ভাবে এসব কাজ করতে সোমবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। পরে সন্ধ্যার দিকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে লাশ সৎকার করার একটি টিম চলে আসে। তারা লাশের গায়ে জীবাণু নাশক তরল ছিটিয়ে দিয়ে পরে অ্যাম্বুলেন্সটিতে করে রওনা দেয় পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের দিকে। সেখানে সৎকার করা হয় সুজনের মরহেদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত