দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশে করোনা শনাক্তের ১২২তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫৫ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এক দিনে এত সংখ্যক মৃত্যু এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে গত তিন দিনের মধ্যে দুদিনই ৫৫ জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া শেষ তিন দিনে দেড় শতাধিক (১৫৪ জন) রোগীর মৃত্যু হলো। অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৩টি, যা গত ২৯ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে অল্প পরীক্ষাতেই এদিন তিন হাজারের বেশি নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ, যা গত দশ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এ যাবত চতুর্থ সর্বোচ্চ।
পরীক্ষার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমলেও নতুন পরীক্ষাগারের সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল ঢাকায় বেসরকারি আহসানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নতুন করে নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। এ নিয়ে দেশে বর্তমানে সর্বমোট ৭৪টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এদিন নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৪৯১টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৩টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ২৭ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৫৫ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৫৩ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০টি নমুনা পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ১৫১ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৮ হাজার ১০২ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৬ জন ও নারী ৯ জন। সর্বোচ্চ ২৭ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১২ জন, খুলনায় ৭ জন, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও রংপুরে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৯ জন, বাড়িতে ১৫ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে ১ জনকে। মৃতদের মধ্যে ১১-২০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ২ জন, ৪১-৫০ বছরের ৬ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৮ জন, ৬১-৭০ বছরের ২১ জন, ৭১-৮০ বছরের ৬ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ১ জন। এছাড়া দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭০৩ জন পুরুষ এবং ৪৪৮ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন।
ডা. নাসিমা জানান, সারা দেশের কভিড হাসপাতালগুলোতে মোট ১৪ হাজার ৭৭৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন ৪ হাজার ১৫৬ জন এবং মোট ৪০১টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ২১০ জন। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪৯৫ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৯১৪ জন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮০২ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১৬ হাজার ৮৭৩ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ৪৪১ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৫টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ১২৩ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
