ঝুঁকিতে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ, আতংকে স্থানীয়রা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ০৮:৫১ পিএম

মেঘনার ঢেউ আর প্রবল স্রোতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ। ইতিমধ্যে পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় বাঁধের কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। যে কোন সময় ভেঙে যেতে পারে এই রক্ষা বাঁধ। ভাঙনের শঙ্কা নিয়েই দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

ভাঙনের ঝুঁকি এড়াতে হরিসভা এলাকায় বালিভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৩ হাজার ৩শ’ ৬০ মিটার এলাকা নিয়ে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের অবস্থান।

বুধবার সরেজমিন হরিসভা এলাকায় মেঘনার পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পানির ঘূর্ণন পাক ও প্রবল ঢেউয়ের প্রভাবে বাঁধের ব্লকগুলো অনেকটা নিচু হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোন সময় পানিতে তলিয়ে যেতে পারে শহর রক্ষা বাঁধ। বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ণ বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে শ্রমিকরা। কিন্তু স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় বালির বস্তা ফেলতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় বহিরাগত মানুষজনের চলাচল বন্ধে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ বিভাগ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা বিমল চক্রবর্তী বলেন, গতবছরও বর্ষার মৌসুমে কয়েক দিনের ব্যবধানে এই এলাকার ১৫টি বসতঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তখন মন্ত্রী, এমপিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যান। আমাদের আশ্বাস দেন স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এর পরে কোন কাজ করা হয়নি। তাই এই বছরও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকাটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। গত বছর হরিসভা এলাকায় ভাঙনে বেশকিছু বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন আতংকে রয়েছে হরিসভা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ও রয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহি পুরানবাজার ব্যবসায়িক এলাকাও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, মেঘনা নদীর পানি ও স্রোত বৃদ্ধির কারণে  হরিসভা এলাকাটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধের ৯০ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে বালিভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে  ৪ হাজার বস্তা ফেলা হয়েছে। এখানে মোট ১৫ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হবে। এই অঞ্চলের দেড় কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার করা হয়নি। একটি বাঁধ পাঁচ বা দশ বছর পর পর সংস্কার করতে হয়। কিন্তু তা করা হয়নি। পুরো শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য আমরা ৪৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠিয়েছি। এ প্রকল্প গত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্থগিত করা হয়। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সমীক্ষা করে পুনরায় প্রকল্প দাখিল করতে। কিন্তু করোনার কারণে সমীক্ষার জন্য একটি প্রকল্প তৈরী করা এখনো সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত