হাওর দেখতে ট্রলারে করে বেড়াতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী। হাওরে ঘুরতে ঘুরতে হঠাতই বিকল হয়ে যায় তাদের ট্রলারটি। মাঝি হাল ধরার চেষ্টা করলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাদের ট্রলারটি দিক্বিদিক ভাসছিল, সেই সাথে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করে বিপদে পড়া ওই শিক্ষার্থীরা সাহায্য চাইলে কিশোরগঞ্জের চামটাঘাট ফাঁড়ির নৌ পুলিশ গিয়ে তাদের হাওর থেকে উদ্ধার করে।
শনিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পুলিশ পরিচালিত 'জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯' একজন কলার ফোন করে জানান, তিনিসহ ১০জন কিশোরগঞ্জের একটি হাওরে ট্রলার বিকল হয়ে আটকে পড়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাদের ট্রলারটি দিক্বিদিক ভাসছিল। তিনি তাদের উদ্ধারের জন্য অনুরোধ জানান।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুষার, নিলয়, রাকিব, সাফিন, সিয়াম, রকি, রিফাত, শামীম ও আরও দুইজন সহ মোট ১০ জন। তারা ঢাকার সাভারের অধিবাসী এবং তাদের বয়স ২০-২২ বছর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোট ১০ জন শিক্ষার্থী ৫টি মোটরবাইকে সাভার থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ১২টা নাগাদ কিশোরগঞ্জে পৌঁছায়। মিঠামইন থানাধীন বালিখোলা ঘাট থেকে একটি ট্রলার ভাড়া করে তাতে বাইকসহ উঠে পড়ে তারা। আশে পাশের বিভিন্ন হাওরে ঘুরে বেড়িয়ে বালিখোলা ঘাটে ফেরার পথে ঘাট থেকে ৭/৮ কিমি দূরে করিমগঞ্জ থানাধীন নাওগাং হাওরে তাদের ট্রলারের প্রপেলারের পাখা ভেঙ্গে যায়। তখন আবহাওয়া ছিলো দুর্যোগপূর্ণ, ঝড়ো হাওয়া বইছিল। ঢেউয়ের তোড়ে তাদের বিকল ট্রলারটি হাওরে দিক্বিদিক ভাসছিল।
এসময় ট্রলারের মাঝি তার পরিচিতদের কাছে ফোনে সাহায্য চাইলেও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কেউ সাহায্য করার জন্য আসতে রাজী হয়নি। দূরবর্তী কিছু মাছ ধরার নৌকার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য তারা অনেক ডাকাডাকি করে কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তখন তুষার নামে এক শিক্ষার্থী ৯৯৯ এ ফোন করে তাদের উদ্ধারের অনুরোধ জানায়।
৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে কলারের সাথে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এএসপি হেডকোয়ার্টার, ওসি মিঠামইন থানা ও চামটাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের সাথে কথা বলিয়ে দেয়। সৌভাগ্যক্রমে চামটাঘাট ফাঁড়ির একটি নৌ টহল দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অবস্থান চিহ্নিত করতে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পুলিশের দলটিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
টহল দলটির এস আই নাজমুল ইসলাম ৯৯৯ কে ফোনে জানায়, আবহাওয়া খারাপ থাকায় তারা নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছেন। ঘন্টা খানেক খোঁজা খুঁজির পর অবশেষে শিক্ষার্থীদের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং তাদেরকে উদ্ধার করে ঘাটে পৌঁছে দেয়া হয়।
