‘চশমা’য় শুরু মহিমান্বিত ক্যারিয়ার

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ০৭:৪৪ এএম

টেস্ট অভিষেকের দুই ইনিংসেই শূন্য করার তালিকায় নাম আছে ৩৭ জনের। এদের মধ্যে গ্রাহাম গুচ অনন্য। তিনি চশমা পেয়েছিলেন অ্যাশেজ টেস্টে। বিংশ শতাব্দীতে আর কোনো ইংলিশ ক্রিকেটারের ভাগ্যে এমন জোড়া শূন্য জোটেনি।

গুচের টেস্ট অভিষেক ১৯৭৫ সালে, এজবাস্টনে। প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ব্যাট করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ১১ জুলাই ব্যাটিং করার সুযোগ পান গুচ। তিন বল খেলে কোনো রান না করেই মিডিয়াম পেসার ম্যাক্স ওয়াকারের শিকার হন। ৪৫.৩ ওভারে মাত্র ১০১ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅন করেছিল স্বাগতিকরা। পরের দিন অর্থাৎ ১২ জুলাই ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ৯৩ রানে ৫ উইকেট হারায়। গুচ দ্বিতীয় ইনিংসেও শূন্য করে জেফ থমসনের বলে আউট হন। ইংল্যান্ড সেই টেস্ট ইনিংস ও ৮৫ রানে হেরেছিল। পরের টেস্টেও দলে ছিলেন গুচ। দুই ইনিংসে ৬ ও ৩৬ রান করে বাদ পড়েন। তিন বছর দলের বাইরে ছিলেন। এরপর ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে গুচ কী করেছেন তা সবার জানা। তিনি সেই বিরল ইংরেজ ক্রিকেটারদের একজন যিনি উপমহাদেশ ও বাইরে সমান সফল। টেস্টে তার গড় ৪২.৫৮। উপমহাদেশে গড় ৪২.০০।

অদ্ভুত ব্যাটিং স্টান্সের আদি পুরুষ ছিলেন গুচ। তার সময়ে হাই ব্যাকলিফট স্টান্স নিয়ে কেউ ব্যাট করতেন না। তিনিও যে ওভাবে ব্যাট করে সফল হবেন তাতে অনেকের সংশয় ছিল। ১১৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে সেই সংশয় এমনভাবে কবর দিয়েছেন যে অ্যালিস্টার কুকও বলতে বাধ্য হনÑ ‘রান যে যতই করুক না কেন, গ্রাহাম গুচ একজনই হয়!’

২০১৫ সালে হেডিংলিতে গুচের ৮৯০০ রানের রেকর্ড ভেঙে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের মালিক হন কুক। তারপর বলেন, ‘গুচির রেকর্ড পেরিয়ে যাওয়া ক্রিকেট জীবনের একটি মধুর মুহূর্ত সন্দেহ নেই, তবে নিজেকে কোনো দিনই ওর মাপের ব্যাটসম্যান বলে মনে করতে পারব না। গ্রাহাম গুচ একজনই। ও-ই ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান।’ কেউ যদি মনে করেন ১৮ বছর বয়সে কুক এসেক্সের হয়ে খেলা শুরু করার সময় গুচ কোচ ছিলেন বলে গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতায় কথাগুলো বলেছেন তাহলে ভুল করবেন। ইংল্যান্ডের হয়ে গুচ প্রতিপক্ষের যে বোলিং সামলেছেন সেটাই তার উৎকর্ষের প্রমাণ। ভারতে তখন রাজত্ব করতেন কপিল দেব-ভাগবত চন্দ্রশেখররা। পাকিস্তানে ইমরান খান-আবদুল কাদির। লিলি-

থমসনের যুগ শেষ হলেও অস্ট্রেলিয়া পেয়ে গেছে তরুণ ম্যাকডারমটকে। আর ভুবনজয়ী উইন্ডিজের কথা বলাই বাহুল্য। অ্যান্ডি রবার্টস, মাইকেল হোল্ডিং, ম্যালকম মার্শাল, জোয়েল গার্নার তো ছিলেনই পরে উঠে এসেছেন কার্টলি অ্যামব্রোস ও কোর্টনি ওয়ালশ। ক্রিকেট মাঠে গুচের সঙ্গে লড়াই নিয়ে অ্যামব্রোস বলেছিলেন, ‘কাউন্টি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায়ই আমাদের যুদ্ধ হতো। নাছোড়বান্দা ও কঠিন প্রতিপক্ষ। টপ অর্ডারে তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে। ১৯৯১-এ হেডিংলির সেই টেস্টে অপরাজিত ১৫৪ শুধু নয়, আরও অনেকবারই গুচ আমাদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ব্যাট করেছে। সব সময়ই চেষ্টা করতাম ওকে দ্রুত আউট করতে।’

গুচ একই টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেটা ছিল আজহারউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ভারতের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্ট। ১৯৯০-এর জুলাইয়ে। দুই ইনিংসে গুচ করেছিলেন ৪৫৬ রান। পরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করে কুমার সাঙ্গাকারা তার সঙ্গী হন।

টেস্ট ইতিহাসে জোড়া শূন্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরুর পর সফল হাওয়ার উদাহরণ আরও আছে। তবে মারভান আতাপাত্তু একটু আলাদা। তার প্রথম ছয় ইনিংসের পাঁচটিই ছিল শূন্য। ০, ০; ০, ১; ০, ০। চতুর্থ টেস্টে ২৫ ও ২২ রান করার পর আবার শূন্য। সেই আতাপাত্তু ৯০ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৬টি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি লম্বা সময় ব্যাট করতে পছন্দ করতাম। এটা কারণ হতে পারে। তবে অন্য কারণ ক্যারিয়ারের শুরুতে শূন্য রানে আউট হওয়া। আমার ধারণা ছিল শূন্য কাটাতে পারলেই আমি বড় রান পাব।’ ক্যারিয়ারে মোট ২২বার শূন্যতে আউট হয়েছেন আতাপাত্তু। ১৯৯০-এ শুরু করে ১৭ বছরের ক্যারিয়ার শেষে তার সংগ্রহ ৩৯.০২ গড়ে ৫৫০২ রান। ১৬ সেঞ্চুরি, ১৭ হাফসেঞ্চুরি।

অভিষেক টেস্টে ‘চশমা’ পাওয়াদের মধ্যে সর্বাধিক ১১৮ ম্যাচ খেলেছেন গুচ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯০ টেস্ট খেলেছন আতাপাত্তু। নির্ভেজাল ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে সাঈদ আনোয়ার, খেলেছেন ৫৫ টেস্ট। বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭১ টেস্ট খেলেছেন অ্যালান ডোনাল্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত