এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন।
শনিবার রাতে এ সংক্রান্ত প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।
নির্দেশিকায় তিনি জানান, এ বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সাড়ে তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে উচ্চ ও অধস্তন আদালতের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম। তবে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে অধস্তন আদালতে হাজতি আসামির জামিনের শুনানিসহ সীমিত আকারে মামলার আবেদন গ্রহণ হচ্ছে।
এ ছাড়া উচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিনসহ স্বল্প পরিসরে মামলার শুনানি ও আদেশ হচ্ছে। কিন্তু অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ না থাকায় ফৌজদারি মামলার অসংখ্য আসামি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
এর আগে গত ৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক নির্দেশিকায় জানায়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট আদালতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। তবে, এজন্য আদালতে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে।
সর্বশেষ নির্দেশিকায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল এবং শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করবেন যাতে আদালত প্রাঙ্গণে ও আদালত ভবনে কোনোরূপ জনসমাগম না ঘটে।
আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে অন্তত ৬ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জনসমাগম এড়াতে বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক আত্মসমর্পণের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।
একটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ দুজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। এজলাস কক্ষে একত্রে ছয়জনের অধিক লোকসমাগম করা যাবে না।
তবে একই মামলায় একাধিক আত্মসমর্পণকারী অভিযুক্ত ব্যক্তি থাকলে এজলাস কক্ষের ডকে সর্বোচ্চ পাঁচজন অভিযুক্ত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এ রকম মামলা একাধিক ভাগে/সেশনে শুনানি করতে পারবেন এবং আদেশ দেবেন।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানিকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ছাড়া অন্য কোনো আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না। একটি আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস কক্ষ ছাড়ার পর দুই মিনিট বিরতি দিয়ে পরবর্তী মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করতে হবে।
আদালতের বারান্দা করিডোরে জনসমাগম করা যাবে না। এছাড়া এজলাস কক্ষে অবস্থান করার সময় প্রত্যেককে মুখাবরণ (মাস্ক) পরিহিত থাকতে হবে। আদালতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক ব্যক্তির তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।
এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় দায়িত্বরত বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানি হতে বিরত থাকতে পারবেন।
