হবিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে প্রয়াত এক শিক্ষিকা পরিবারের পেনশন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আট মাস আগে পেনশনের জন্য করা আবেদনের তারিখ ঘষামাজা করে উপজেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা সর্দার আবুল কালাম আজাদ সোমবার ওই আবেদনটি সুপারিশ করে জেলা প্রাথমিক কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হবিগঞ্জের রাজিউড়া ইউপির চরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মুন্না দাশ গত বছরের ১৩ জুন মানসিক চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। অবিবাহিত ওই শিক্ষিকাই ছিলেন বৃদ্ধা মায়ের একমাত্র উপর্জনকারী। মেয়ের মৃত্যুর পর মা শেফালী দাশ (৬৫) কয়েক মাস অসুস্থ ছিলেন।
মুন্নার স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১১ নভেম্বর শেফালী দাশ মেয়ের পেনশনের জন্য হবিগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুপারিশ করার পর ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুপারিশ করে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদনটি পাঠান। চলতি বছরের ১২ ফেব্রয়ারি শেফালী দাশকে ডেকে পাঠান উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ। সাক্ষাতের সময় শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম শিক্ষিকা মুন্নার মৃত্যুর জন্য শেফালীকে দোষারোপ করেন। একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বিদায় করেন। একই সঙ্গে অফিসের কারনিক কাজল চক্রবর্তীকে মুন্নার ফাইলে ডকেট নম্বর না দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন।
তারা জানান, এ অবস্থায় ১ মার্চ শেফালী দাশ জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে যান। তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সরাসরি একটি কপি জমা দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষিকা মুন্নার পেনশনের আবেদন ফাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সুপারিশ দিয়ে দ্রুত পাঠানোর জন্য ফোনে বলেন। কিন্তু এরপরও আবুল কালাম ফাইলে হাত দেননি।
অভিযোগ শুনে গত ৯ জুলাই দেশ রূপান্তরের এই প্রতিনিধি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে মুন্নার পেনশনের (লামগ্রান্ড) আবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি এ সংক্রান্ত কোনো আবেদন পাননি বলে জানান।
৯ ডিসেম্বর সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদনের কাগজপত্র পাঠিয়েছেন এবং ১২ ফেব্রয়ারি মুন্নার মাকে অফিসে ডেকে এনে গালামন্দ করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ৯ জুলাই বিকেলেই তিনি কারনিক কাজল চক্রবর্তীকে দিয়ে মুন্নার ফাইল তার কাছে নেন। দীর্ঘদিন ফাইল ফেলে রাখার দোষ যাতে তার ঘাড়ে না পড়ে সে জন্য নতুন করে আবেদন করার জন্য কারনিককে দিয়ে শিক্ষিকা মুন্নার আত্মীয় দিলিপ চৌধুরীর কাছে অনুরোধ করেন। দিলিপ চৌধুরী এতে রাজি না হলে সোমবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার কালাম নিজেই আবেদনের তারিখ গত ১১ নভেম্বর কেটে চলতি সনের ১ জুলাই এবং সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সুপরিশ একই তারিখ দেখিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠিয়েছেন বলে দিলিপ চৌধুরী জানিয়েছেন।
দিলিপ চৌধুরী আরো জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার একগুয়েমির কারণে ফাইলটি ৮ মাস পড়ে থাকায় হিসাবরক্ষণ অফিস তা গ্রহণ করবে কি না চিন্তায় আছি। তবে আবেদনের তারিখ ঘষামাজার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সর্দার আবুল কালাম আজাদ অস্বীকার করেন।
