খুলনায় হচ্ছে দেশের পঞ্চম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, খুলনা ২০২০’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ অনুমোদনের কথা জানান।
গতকাল প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যুক্ত হন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভাগীয় শহর খুলনায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়। চিকিৎসা শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ ও গবেষক তৈরির জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনে মোট ৫৫টি ধারা রয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণে বিধিমালা, প্রবিধানমালা ও সংবিধি প্রণয়নের বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়া আইনে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া রয়েছে। এছাড়া সিন্ডিকেট, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল অনুষদ বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকারের মনোনীত প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অংশীজন ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিন্ডিকেট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সিন্ডিকেটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খুলনা বিভাগের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট এবং চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে।
এই আইনের মাধ্যমে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন ঘটবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
৭ মার্চ জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস : বৈঠকে ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। প্রতি বছর ৭ মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে পালন করবে সরকার। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন-বঞ্চনার শিকার বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।
