উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জে যমুনাসহ সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটির ও জেলার কাজিপুর উপজেলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় জেলার প্রায় ৫১ টি ইউনিয়নের ২৫০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে এ সব ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় পৌনে দুইলাখ মানুষ।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ২০ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমির পাট, আখ, তিল,কাউন ও সবজি ফসল। ফলে কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার কারণে কাচা ঘাসের মাঠ ডুবে যাওয়ায় গোবাদি-পশু নিয়ে গো-খামার মালিকরা বেশ বিপাকে পড়েছে।
এদিকে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা দূর্গত মানুষ ত্রাণের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। নতুন কোন লোক দেখলে বা শ্যালো নৌকার শব্দ পেলেই ত্রাণের আশায় ঘর থেকে ছুটে আসে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল হক বলেন, বন্যার কারণে জেলার এ পর্যন্ত পাট, আখ, তিল,কাউন ও সবজি সহ ২০ হাজার ৭৩৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমির পাট তলিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, ত্রাণ দপ্তর থেকে ৪০০ টন চাল, দুই লাখ টাকার শিশু খাদ্য, দুই লাখ টাকার গো-খাদ্য ও চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রতিটি উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকার জন্য ১৪২ টন চাল এবং দুই লাখ ৫৪ হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
যে কোনো পরিস্থিতিতে দূর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে নিজ নিজ উপজেলা কমিটিকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
