সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমিপল্লি আবাসন এলাকায় এক মসজিদের খতিবের ফতোয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসীর। এ বিষয়ে বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মুসল্লি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের খতিব শায়েখ আহাম্মদউল্লাহ বিভিন্ন ফতোয়া জারির ফলে মুসল্লিদের মধ্যে খতিব সাহেবের পক্ষে ও বিপক্ষে উত্তপ্ত, বিতর্কমূলক আচরণের ফলে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে একাধিকবার হাতাহাতির ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য জিয়াউল হকসহ ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ্য করেছেন উক্ত ভূমি পল্লি জামে মসজিদ কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাক্তার খিজির হায়াত ও সাধারণ সম্পাদক মোহসিন মিয়া সহ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটতে পারে।
লিখিত অভিযোগকারী ভূমি আবাসন প্রকল্পের বাড়ি মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, আমাদের মহল্লার মসজিদের খতিব সাহেবের ফতোয়া নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা ঘটতে পারে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভূমি মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সম্পাদক মশিউর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসলে মসজিদের খতিব মোনাজাত দেবেন না বলে জানিয়ে দেন।
এ বিষয় জানতে চাইলে ভূমিপল্লি জামে মসজিদ ও কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহসিন মিয়া বলেন, খতিব সাহেবকে নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।
মুসল্লিরা জানান, আমাদের মসজিদের খতিব শায়েখ আহাম্মদ উল্লাহ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও ফতোয়া জারি করছেন। তিনি মসজিদে এক বছর পূর্বে নামাজের শেষে মোনাজাত করলেও ছয় মাস যাবৎ নামাজের পর মোনাজাত পরিচালনা না করে বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে আসছেন। এতে মুসল্লিদের মধ্যে মোনাজাতকে কেন্দ্র করে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জায়েদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অবশ্যই থানায় চলে গেছে। এটা আমাদের লোকাল থানা দেখাশোনা করবে।
