কোরবানির পশু নিয়ে খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২০, ১১:২২ এএম

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার তুলনায় বেশি সংখ্যক পশু লালন-পালন করেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার খামারিরা।

তবে এ উপজেলার পশুর হাটগুলো এখনও জমে উঠেনি। খামারিদের বাড়িতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও অন্যান্য বছরের তুলনায় কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালীন অবরুদ্ধতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। করোনাকালে কেমন হবে গরুর বেচাবিক্রি, দাম কেমন পাওয়া যাবে- এসব চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে খামারিদের।

গো-খাদ্যের চড়া দাম আর বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গড়া এসব খামারের মালিকরা বলছেন, লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

করোনার প্রভাব থাকায় হাটের সংখ্যাও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কোরবানির পশু হাটে না নিয়ে খামার থেকে বিক্রি করলে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানান খামারিরা।

অপরদিকে, অনেকেই আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে কম বাজেটে কোরবানির পশু কিনতে আসলে বড় গরুর দাম কমতে পারে। কোরবানির হাটে গবাদি পশুর দাম কম থাকলে খামারিদের সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বে।

করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির আগ মুহূর্তের হাটের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই গবাদি পশু বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, ছোট-বড় মিলিয়ে উপজেলায় গবাদি পশুর খামার রয়েছে দেড় শতাধিক। এসব খামারে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৭ হাজার ৫৬৩টি গবাদি পশু মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৬৩টি গরু, ২ হাজার ৩০০টি মহিষ ও এক হাজার ৫০০টি ভেড়া-ছাগল রয়েছে। এর বাইরে উত্তরবঙ্গ থেকে আনা হয়েছে আরও ২০ হাজারের অধিক গরু-মহিষ।

বর্তমানে উপজেলায় অন্তত ৪০ হাজার গবাদি পশু মজুত রয়েছে। ছোট-বড় মিলে উপজেলায় পশুর হাট রয়েছে ১০টি। এ উপজেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজার গরু-মহিষ-ছাগল।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুরহাট হচ্ছে উপজেলার তৈলারদ্বীপ সরকারহাট। এই হাটে প্রতিবাজারে প্রায় ছয় থেকে সাতশত গবাদি পশু বেচাকেনা হয়। তবে করোনার প্রভাবে এখন বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে।

সরকারহাটের ইজারাদার মো. হেলাল উদ্দিন জানান, এই হাটটি আমরা কয়েকজন মিলে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে দুই মাসের বেশি সময় হাট বন্ধ থাকায় এবং কোরবানিকে সামনে রেখে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর গরু-মহিষ বেচাকেনা কম হওয়ায় আমরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

গবাদি পশু পালনকারীরা জানান, মূলত কোরবানি উপলক্ষেই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।

কোরবানির ৪-৫ মাস আগে থেকে কোরবানি পর্যন্ত কয়েক দফা গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। সে অনুযায়ী কোরবানির সময় পশুর দামও বাড়তি থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে পশু খাদ্য ও আনুসঙ্গিক সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।

তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে পশুর হাট তেমন বসছে না, ক্রেতাও থাকবে কম। এই অবস্থায় গবাদি পশুর তেমন দাম হবে না। এই পরিস্থিতি থাকলে এ বছর লোকসান গুনতে হবে আমাদের।

উপজেলার বটতলী গ্রামের এসএমএ এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের ম্যানেজিং পার্টনার ছালেহ নুর সুমন বলেন, এ বছর কোরবানিতে বিক্রির জন্য ৫টি বড় গরু রয়েছে। খারিয়ানা জাতের সবচেয়ে বড় গরুটির নাম সিনবাদ। ৭০ ইঞ্চি উঁচু আর ৮৫০ কেজি ওজনের এই গরুটির দাম ৫ লাখ টাকা। কিন্তু এখনও তেমন কোনো ক্রেতা আসছেন না। দুয়েকজন মৌসুমী ব্যবসায়ী আসলেও গরুর দাম বলছে ৩ লাখ। আসলে এই গরু পালনের জন্য যে পরিমাণ টাকা খরচ করেছি,তাও উঠবে না।

করোনা পরিস্থিতি এ রকম থাকলে এবং গরুর দাম না বাড়লে এবার পথে বসতে হবে। শুধু ছালেহ নুর সুমন নয়, এ রকম আশঙ্কা উপজেলার বেশিরভাগ খামারির।

মৌসুমী গরু ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, সারাবছরই আমরা গরু কেনা বেচা করে থাকি। কোরবানির আগের কিছুদিন সব থেকে বেশি ব্যবসা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে পশুরহাট জমবে কি না সন্দেহ। এই অবস্থায় বাজার খুবই মন্দা থাকবে। কোনভাবেই ভালো ব্যবসা আশা করা যায় না। তবে পশুরহাটে যদি সরকারিভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়। তাহলে ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ী সবাই উপকৃত হবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার কোরবানির পশু মজুত রয়েছে। এসব কোরবানির পশু উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে। তবে, ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। তাই, ভারত বা অন্য জেলা থেকে গরু না আসলে খামারিরা লাভবান হবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত