ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করছে। পানি নেমে যাওয়ায় ক্রমেই ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক নির্ধারণ করতে কাজ করছেন প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা।
এর আগে গত রবি ও সোমবার পাহাড়ি ঢলের চাপে মুহুরী নদীর বাঁধের নয়টি স্থানে ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরামের ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ সময় ওই এলাকার ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, মাছের খামার ও বাড়িঘর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ফুলগাজী পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ায় অন্তত ২৫৪টি পুকুরে বন্যার পানি ঢুকে মাছ ভেসে গেছে। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়েছে ৩ উপজেলার ৩৫০ মৎস্যচাষি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বাঁধ ভাঙার কারণে ফুলগাজী ও পরশুরামে ১৪৪ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বলেন, বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন কাজের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা।
অপরদিকে, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জের অধিকাংশ হাওরের পানি এখনো নামেনি। এতে বীজতলা তৈরি করতে না পারায় বিলম্ব হচ্ছে কৃষকদের আমন মৌসুমে ধানের চাষাবাদ। এখন ফসলের চারা রোপণের মৌসুম। অথচ অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলো তলিয়ে আছে পানিতে। সময় মতো ওইসব জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছে হাওরের হাজারো কৃষক।
কিশোরগঞ্জ জেলার আটটি উপজেলা নিকলী, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, বাজিতপুর ও কুলিয়ারচর নিয়ে হাওরাঞ্চল। নাব্য সংকটের কারণে নদী থেকে হাওরের গভীরতা বেশি হওয়ায় পানি নামছে না বলে জানান কৃষকরা।
এক কৃষক বলেন, আগের বছর এ সময়ের আগেই বীজতলা তৈরি হয়েছিল। আর এ বছর এখনো বীজ রোপণ করা যাচ্ছে না। আরেক কৃষক বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত আমরা ধান রোপণ করতে পারিনি, শুধুমাত্র পানি না কমার কারণে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে কিশোরগঞ্জ জেলায় সর্বমোট ১ লাখ ৯০ হাজার ৭২০ হেক্টর বোরো ও আমন জমি আবাদ হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেগুলেটরগুলোর মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কৃষির প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারব।
