ভারতের আসাম প্রদেশের করিমগঞ্জে গণপিটুনিতে নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে দুইজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের আবদুল মানিকের ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫) ও একই গ্রামের মৃত আসাদ্দর আলীর ছেলে নুনু মিয়া (২৭)।
৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ সোমবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নিহত অপরজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গাজী শহীদুল্লাহ আরো জানান, ভারতে ৩ বাংলাদেশি মারা যাওয়ার ঘটনাটি সোমবার ৫২ বিজিবিকে জানিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিএসএফ এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে ইতিমধ্যে ২ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। অপরজনের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া লাশ ফেরত আনার ব্যাপারেও বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে আলোচনা চলছে।
ভারতের আসামের করিমগঞ্জ জেলায় শনিবার রাতে গরু চোর সন্দেহে ৩ বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন দ্য হিন্দুসহ ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়। খবরে করিমগঞ্জ পুলিশকে উদ্বৃত করে বলা হয়, আসামের করিমগঞ্জের পাথরকান্দি থানাধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বগ্রিজান চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। পিটুনিতে ৩ জন মারা যায়। তাদের সঙ্গী ৪ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কৃষ্ণ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্তে জানা গেছে, তারা গরু চুরির উদ্দেশে সীমান্ত টপকে এসেছিল। স্থানীয় জনতার পিটুনিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
১ জুন করিমগঞ্জের অন্য একটি চা বাগানে রঞ্জিত মান্ডা নামে আরেক বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করে ভারতীয় নাগরিকরা।
উল্লেখ্য আসামের করিমগঞ্জ জেলাটি বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী।
