ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে। এর ফলে মেগা সিটি দিল্লি ও দেশজুড়ে আক্রান্তের যে সংখ্যা সরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে তা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
করোনাভাইরাসে বৈশ্বিক আক্রান্তের তালিকায় গত সপ্তাহে তৃতীয়স্থানে উঠে আসে ভারত। প্রায় ১২ লাখ আক্রান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরেই দেশটির অবস্থান।
অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভারতে টেস্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম হচ্ছে। আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অনেক অনেক বেশি হয়ে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সেই ধারণাই উসকে দিল দিল্লিতে পরিচালিত ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের একটি জরিপ। বিশ্বের অন্যতম এই মেগা সিটিতে অনির্দিষ্টভাবে বাছাই করা ২১ হাজার ৩৮৭ জনের রক্ত নিয়ে করোনা টেস্ট করা হয়।
২৭ জুন থেকে ১০ জুলাই সময়ে করা জরিপের ফলে দেখা গেছে, ২ হাজার ৩৪৮ জনের শরীরে ‘আইজিজি’ অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে, এর মানে হলো তারা কোনো এক সময় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন।
জরিপের এই ফলাফল মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তাতে অনুমান, দিল্লির ২ কোটি জনসংখ্যার ৪৭ লাখই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, যা সরকারি হিসেব থেকে প্রায় ৪০ গুণ বেশি। অথচ সরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধের প্রশংসা করা হলেও এই জরিপের ফল তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে “এতে বোঝা যায়, লক্ষণ নেই এমন অনেক মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত।”
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিচালক সঞ্জিত কুমার জানিয়েছেন, ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন অনেক মানুষ।
ভারতে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে দেশটিতে আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনা শনাক্তের বেশির ভাগই মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও তামিলনাড়ু রাজ্যের।
