সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ও আর্মডফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রেসের যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ।
১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত চক্রের হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সংস্থাটি। গ্রেপ্তাররা হলেন, এস এম সানোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নু, মো. পারভেজ খান, জাকির হাসান দিপু ও মোহাইমিনুল ইসলাম বাঁধন।
চক্রের হোতা জসিম ও তার ১৪ সহযোগীসহ অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে ২০ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে সিআইডি। এর আগে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁসের এক মামলায় ৪৭ জনকে এবং ২০১৮ সালে আরেক মামলায় হোতাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদে সম্মেলনে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বিস্তারিত তুলে ধরেন সিআইডির সাইবার পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শাহ আলম, বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধিনে একটি প্রেসে ১৯৮৮ সাল থেকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের প্রশ্ন ছাপা হতো। প্রেসের সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের একটা যোগাযোগ ছিল। তাদের পরিবারের সদস্য কেউ কেউ প্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এ ছাড়া প্রেসের কোনো সদস্য বা প্রশ্ন প্রণয়নে যারা জড়িত থাকে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল চক্রটির। এর ভিত্তিতে এরা প্রশ্নগুলো প্রেস থেকে নিয়ে একটি বাসায় এসে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের পড়াত। আমরা তদন্ত করছি, শিগগির এ বিষয়ে জানাতে পারব।’
লিখিত বক্তব্যে সুমন কুমার দাস বলেন, ‘২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। কিন্তু দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এই চক্রের অন্যতম দুই হোতা সানোয়ার হোসেন ও মোহাইমিনুল ইসলাম বাঁধনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করে সিআইডি। বাঁধনের কাছ থেকে বিভিন্নজনের কাছ থেকে নেওয়া ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সানোয়ার হোসেন জানান তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের পশ্ন ফাঁসসহ বিভিন্ন সরকারী মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের সঙ্গেও জড়িত। সে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের অন্য হোতা জসিম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নু এবং তার সহযোগী জাকির ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নু জানান ২০১৩ থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে সরকারী মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে। তার এই চক্রের সঙ্গে ৫০ জনের অধিক সহযোগী জড়িত। চক্রটি প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় করেছে। এ অর্থ দিয়ে বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছে চক্রটি।’
তিনি বলেন, ‘চক্রের হোতা জসিম উদ্দিনের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ৩৯টি চেক, ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, ১৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি গাড়ি ও দুটি বাড়িসহ অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারভেজের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের ৮৪ লাখ টাকার চেক ও জাকিরের কাছে ৫৭ লাখ টাকার এফডিআর ও চেক পাওয়া গেছে। ’
তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রেস এবং পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন বের করে সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া দুটি চক্রকে চিহ্নিত করে সাইবার পুলিশ, সিআইডি। ওই মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিটও দেয় সিআইডি। যার মধ্যে গ্রেপ্তার ছিল ৪৭ জন। এদের মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’
