তিন বছর বয়সী সুলতানের ওজন ৩২ মণ। লম্বায় ৮ ফুট, উচ্চতায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। বিশাল দেহের সুলতানকে লালন-পালন করা হচ্ছে পারিবারিক পরিবেশে। সুলতান ঘরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বাইরে এলে ওজনে মাটিতে পা দেবে যায়।
পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত জেবু জাতের শাহিওয়াল সুলতানের জন্ম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। চলাফেরা ও খাবারদাবারে নবাবি ভাব থাকায় ভালোবেসে গরুটির নাম রেখেছেন সুলতান।
ঈদুল আজাহা উপলক্ষে শুক্রবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের বৃহৎ পশুর বাজার সরকারহাটে তোলা হয় সুলতানকে। সুদর্শন ও বিশাল শরীরের অধিকারী হওয়ায় হাটের উৎসুক জনতা সুলতানকে দেখতে ভিড় জমান।
বিশাল এই ষাঁড়ের মালিকের নাম রাসেল হাবিব। বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ গ্রামে। তার খামার প্রতিষ্ঠানের নাম রায়হান এন্টারপ্রাইজ। গরুর মালিকের দাবি, আনোয়ারা উপজেলার সবচেয়ে বড় সাইজের গরুটিই হচ্ছে এই সুলতান।
রাসেল হাবিব জানান, প্রায় চার বছর আগে তিনি নিজের খামারের একটি গাভীকে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা উন্নতমানের সিমেনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে প্রজনন করান। এভাবে একটি ষাঁড় বাছুরের জন্ম হয়। প্রতিদিন খড়, ভুসি ও উন্নতমানের খাদ্য খাওয়ানো হয়।
আস্তে আস্তে ষাঁড় বাছুরটি বড়সড় হয়ে উঠে। বর্তমানে গরুটির ওজন ৩২ মণ।
তিন বছরে সুলতানের খাবার বাবদ খরচ পড়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি। আনুষঙ্গিক আরও এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সুলতানের দাম ৮ লাখ টাকা হাঁকাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
গত বছর কোরবানির পশুর হাটে দুই বছরের সুলতানকে তোলা হয়েছিল। তখন দাম যাচাই করে ক্রেতারা চেয়েছেন সাড়ে তিন লাখ টাকা। বর্তমানে বয়স ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে সুলতানের দাম ৮ লাখ টাকা চান গরুর মালিক। তবে ন্যায্যমূল্য পেলে গরুটি বিক্রি করবেন বলে জানালেন রাসেল হাবিব।
সরকারহাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন হেলাল বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারহাট পশুর বাজারের সবচেয়ে বড় গরু (ষাঁড়) সুলতান। আশা করছি, সুলতান ক্রেতা সাধারণের নজর কাড়বে।
