প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুই হাজার জনকে এক কোটি টাকা সহায়তা রুপান্তরের

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ০১:৩৪ পিএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুই হাজার লোককে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুপান্তর।

খুলনা মহানগর এবং বাগেরহাট পৌরসভাসহ দশ ইউনিয়নের এই পিছিয়ে পড়া নারী ও পুরুষদের আত্মনির্ভরশীল করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এই উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার বাগেরহাটে এই নগদ অর্থ সহায়তার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

আর্থিক সহায়তা পাওয়াদের মধ্যে রয়েছে ঝষি, ডোম, খ্রিষ্টান, যৌনকর্মী, হিজড়া, আদিবাসী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ এই প্রতিবেদককে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর লকডাউনসহ নানা কারণে নিম্ন আয়ের হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। করোনাকালীন দুর্যোগে সরকার এই পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্যসহ নানা সহায়তা দিয়েছে। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা রুপান্তর এই কর্মহীন মানুষদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, আমরা বাগেরহাট পৌরসভা ও সদর উপজেলার দশ ইউনিয়নের সবচেয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নানা শ্রেণিপেশার মানুষকে বাছাই করে ৭৩৭ জনের তালিকা তৈরি করে প্রত্যেককে নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়েছি। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই ক্ষুদ্র টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে ছাগল, হাঁস, মুরগি কিনে তা লালন-পালন করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। তারা নিজেদের চেষ্টায় যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্যই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাগেরহাটে ৭৩৭ এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ১২২৩ জনকে মোট এক কোটি টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুপান্তর।

বাগেরহাটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রণয়ন কাজের সহায়ক সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উন্নয়নকর্মী রিজিয়া পারভীন এই প্রতিবেদককে বলেন, বাগেরহাট পৌরসভা ও সদর উপজেলার দশ ইউনিয়নে ঝষি, ডোম, যৌনকর্মী, হিজড়া, আদিবাসী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবহেলিত নারীদের প্রাধান্য দিয়েছি। এই অর্থ সহায়তা পাওয়াদের মধ্যে ষাট ভাগই নারী। তারা যাতে এই ক্ষুদ্র সহায়তা নিয়ে হাঁস মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারে সেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অর্থ সহায়তা পাওয়া নারী বেলা রাণী দাস, বিমলা বাগচি ও তৈয়ব আলী এই প্রতিবেদককে বলেন, করোনার কারণে আমাদের পরিবারের সদস্যরা অনেকদিন বেকার ছিল। দিন মজুরি, মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়ে যাই।

এই বিপদের সময়ে এনজিও আমাদের অফেরতযোগ্য নগদ পাঁচ টাকা সহায়তা দেয়ায় আমরা দারুণ উপকৃত হয়েছি। আমরা এই টাকা দিয়ে ছাগল, হাঁস, মুরগি পালন করে কিছু রোজগারের চেষ্টা করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত