অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন বীরাঙ্গনা রবিজান

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ০৪:১৩ পিএম

বীরাঙ্গনা মোসা. রবিজান বেওয়ার মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পর বাবার ভিটায় আশ্রয় নিলেও বাবার মৃত্যুর পর সেখান থেকেও বিতাড়িত হন। এতদিন সরকারি জমিতে ঝুপড়ি ঘরে ছেলেমেয়ে নিয়ে ভিক্ষা করে খেয়ে না-খেয়ে চলেছে রবিজানের সংসার। চার বছর আগে পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।

এবার নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানাও হলো এই বীরাঙ্গনার।

রবিজানের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন তাকে বাশতৈল নয়াপাড়া গ্রামে আট শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন রবিজানকে সেই আট শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিজানের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল পশ্চিমপাড়া গ্রামে। পিতার নাম মৃত আরাদন আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত রবিজান বেওয়াকে অপবাদ নিয়ে স্বামী সংসারে ঠাঁই হয়নি। শিশুকন্যা নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন তিনি।

যুদ্ধের কিছুদিন পর দ্বিতীয় বিয়ে হয় রবিজানের। সেখানে বেশিদিন সংসার করতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে জন্ম হওয়া ছেলে নিয়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়ি বাঁশতৈল গ্রামে।

তার বাবার মৃত্যুতে সৎমায়ের সংসারে জায়গা না হওয়ায় সরকারি জমিতে ঘর তুলে মেয়ে রহিমা ও ছেলে রফিকুলকে নিয়ে সেখানে কোনো রকম বসবাস শুরু করেন। শিশু ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভিক্ষা করে খেয়ে না-খেয়ে চলতে থাকে রবিজানের সংসার।

২০১৬ সালে স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে রবিজান বেওয়ার জীনব যদ্ধের পুরো ঘটনা। সেই প্রতিবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২ এর ৭(ঝ) ধারা অনুযায়ী সারা দেশে ৪৬ জন বীরাঙ্গনার নামে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যা পরবর্তীতে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। ফলে রবিজান বেওয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান। মুক্তযোদ্ধা ভাতাও পাচ্ছেন তিনি।

রবিজান বেওয়া জমির দখল পেয়ে বলেন, ৭১ সালে নির্যাতিত হয়ে বৃদ্ধ বয়সে সরকার আমাকে মূল্যায়ন করেছে। এখন আবার মাথা গোঁজার একটা ঠাঁইও পেলাম। যাদের কারণে আমার এই সুব্যবস্থা হয়েছে তাদের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত