জলঢাকার মীরগঞ্জহাট ডিগ্রি কলেজ

বেতন বন্ধ ৬ মাস, মানবেতর জীবন শিক্ষক-কর্মচারীদের

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২০, ০৭:৫৬ এএম

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জটিলতায় ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জহাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এমন জটিলতায় করোনাকালীন সময়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে না পেরে পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৪১ শিক্ষক-কর্মচারী। চলতি মাসের মধ্যে বেতন না পেলে আসন্ন ঈদুল আজহার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন তারা।

শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়নে ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ওই কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বজলুর রহমান। তার মনোনয়নের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ১২ জুন পর্যন্ত। ওই মনোনয়নের আড়াই মাসের মাথায় তাকে পরিবর্তন করে গত ২৯ জানুয়ারি একটি মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী (শিক্ষক) আফজালুল হককে সভাপতির পদে মনোনয়ন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন বজলুর রহমান। ওই রিট পিটিশন নিষ্পত্তির আগে গত ১২ জুন আফজালুল হকের মনোনয়নের মেয়াদ শেষ হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করে তার মনোনয়ন। এমন জটিলতায় গত জানুয়ারি মাস থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পারছেন না কলেজের ৪১ শিক্ষক-কর্মচারী।

শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর রহমান পদত্যাগ করার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন আবুজার রহমান। অপরদিকে আফজালুল হক সভাপতি পদে মনোনয়ন পেয়ে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আবুজার রহমানের পরিবর্তে কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আবদুস সাত্তারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনোনীত করেন। এতে করে কলেজে দুজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার হওয়ায় গত ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়।

কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এমনিতেই একটি মহামারী অতিক্রম করছি। তার ওপর ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছি।’

সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক আরিফ হোসেন বলেন, আমাদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এখন সুদের (দাদন) টাকা নিয়ে চলতে হচ্ছে। বেতন বন্ধ থাকায় আসন্ন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে আমাদের পরিবার।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুজার রহমান বলেন, এ নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বিল প্রদানের স্বাক্ষরের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু ছয় মাস অতিবাহিত হলেও স্বাক্ষর না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, সভাপতির বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা আছে। এ অবস্থায় বলেছি, দুই পক্ষ এক হয়ে এলে তাদের বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত