করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ‘প্রজন্মগত বিপর্যয়ের’ মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে জাতিসংঘের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেওয়াই হবে এখনকার ‘অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার’। গুতেরেস বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি নাগাদ ১৬০টি দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এর কারণে প্রায় ১০০ কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে; অন্তত চার কোটি শিশুর জীবন থেকে প্রি-স্কুল হারিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া মহামারী শুরুর আগেই ২৫ কোটির বেশি শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে। আর উন্নয়নশীলে দেশের মাত্র চতুর্থাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক দক্ষতা অর্জিত হয়েছে। এখন আমরা মুখোমুখি হয়েছি এক প্রজন্মগত বিপর্যয়ের, যেটা না বলা মানবিক সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে, কয়েক দশকের প্রগতিকে নস্যাৎ করে দিতে পারে এবং সমাজে প্রোথিত অসমতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কভিড-১৯ এর স্থানীয় সংক্রমণ যখনই নিয়ন্ত্রণে আসবে তখনই যতটা নিরাপদে সম্ভব স্কুল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে অন্যতম প্রধান কাজ। এজন্য অভিভাবক, বাহক, শিক্ষক ও তরুণদের আলোচনা করা জরুরি।
দেশের বেশিরভাগ এলাকায় কভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির মুখে কিছু শিক্ষক ও অভিভাবকের বিরোধিতার মুখ স্কুল আবার চালু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জোরাজুরি করছেন, তখনই জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সুপারিশ এলো। করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন দেওয়া অনেক দেশই ক্রমশ স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে আসতে চাইছে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় করোনার ধাক্কা এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষার্থীদের সবাইকে অনলাইনে কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।
করোনা বাস্তবতা শেষ হওয়ার পরেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন হুমকির মধ্যে থাকবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। কারণ হিসেবে তারা অর্থনৈতিক চাপকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। এই বেকার জনগোষ্ঠীর পক্ষে তাদের সন্তানদের শিক্ষাব্যয় মেটানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে ইতিমধ্যেই। কারণ লকডাউনে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও মাসের পর মাস বেতন গুনতে হচ্ছে অভিভাবকদের।
