অনেক অভাব আর সংকটের মধ্যেই তারা পরীক্ষায় পেয়েছেন সেরা সাফল্য। আরো উচ্চ শিক্ষার জন্য তাদের সামনে এখন যেন অলঙ্ঘনীয় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভাব।
তাদের একজন কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা মোছা. রেশমী আক্তার। সব বিষয়ে জিপিএ-৫ এর মধ্যে চার বিষয়ে নাম্বার নব্বইয়ের ওপর- এত ভালো ফলের পরও অভাবের সংসারে এখন অনিশ্চিত তার কলেজে ভর্তির সিদ্ধান্ত।
তার পছন্দের বিষয় জীববিজ্ঞান আর স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। কিন্তু অর্থ সংকটে তার স্বপ্ন এখন বিলীনের পথে।
সরেজমিনে তার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি টিনের ঘর তার পাশেই রান্নাঘর। এই একটি ঘরেই তাদের চার সদস্যের পরিবারের বাস। পড়াশুনার পরিবেশ নেই বললেই চলে। তবুও পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ে রেশমী ছিনিয়ে এনেছে তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল।
পেশায় রুটি বিক্রেতা মো. রাজু আহমেদ বড় মেয়েকে নিয়ে বাবার অনেক স্বপ্ন থাকলেও অভাবের কাছে নতজানু তিনি।
আলাপচারিতায় তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'মোর বেটি ভাল রেজাল্ট করছে মুই খুশি, স্যাররা সবাই উয়ার কথা ভালো কয়। উয়ার মেধা খুব ভালা। কিন্তু এলা কলেজওত টেকা মেলা নাগে, মোর তো টাকাও নাই'।
তিনি আরো বলেন, 'কাইও যদি সাহায্য করিল হয় তাহলে মুইও কষ্ট করি উয়ার ইচ্ছামত ডাকতার বানানু হয়'।
নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে রেশশী আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, 'আমার পছন্দের বিষয় জীববিজ্ঞান এই বিষয়টি পড়ে আমি অনেক আনন্দ পাই, আমার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া'।
তিনি বলেন, তবে আমার পরিবারের এখন যা অবস্থা তাতে কলেজেই ভর্তি হতে পারবো কিনা তা জানি না আর হলেও আমাকে পড়বে হবে মানবিক বিভাগে। কারণ সেখানে টিউশনি লাগে না।
অপরজন মো. নাহিদ হাসানের সফলতার গল্পটা আলাদা। প্রথমে হাফেজিয়া মাদ্রাসা তারপর কুড়িগ্রাম কামিল মাদ্রাসা।তার সব বিষয়ে জিপিএ-৫। তার পছন্দের বিষয় পদার্থ। পড়তে চান এ বিষয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে তার স্বপ্নে বাধা অভাব।
তার বাবা মো. আবু তালেব শ রূপান্তরকে বলেন,' আমি কাউন্টারে থাকি যা ইনকাম করি তা দিয়া চলি, এহন বেটাক কষ্ট করি মাদ্রাসা পাশ করাইলোং এহন দেখি কম টেকাত কী করা যায়'।
নিজের স্বপ্ন নিয়ে মো. নাহিদ হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার পছন্দের বিষয় পদার্থ বিজ্ঞান। আমি এসএসসিতে এই বিষয়ে পেয়েছি ৯৭ নম্বর। আমি এখন ইচ্ছা ভালো কলেজে পড়াশুনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পড়া।
