শিশুর সার্বিক গঠন এবং সুস্বাস্থ্যের জন্যে মায়ের দুধই সবচেয়ে উপকারী। শিশুর জন্মের পর থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করাতে হয়। শিশু ও মায়ের দুইজনের স্বাস্থ্যের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতি বছর ১ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে জুড়ে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড ব্রেস্ট ফিডিং উইক বা বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ।
এদিকে বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই কোটি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এ মহামারীতে এখন পর্যন্ত সাত লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্ত মায়ের শিশুকে দুধ পান করানো নিরাপদ কি না - এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে আশস্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, করোনা আক্রান্ত মায়ের দুধ কোনোভাবেই শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ উপলক্ষে ভারতের শিশু ও নারী বিশেষজ্ঞরা একটি বিশেষ অনলাইন প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করেন।
সেখানে বক্তাদের মতে, জন্মের প্রথম ৬ মাস তো বটেই, সম্ভব হলে পরের দু’বছর শিশুকে মায়ের স্তন্যপান করাতে পারলে ভালো হবে তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বাড়বে কার্যকর অ্যান্টিবডি।
দেশটির প্রখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পুনীত আউলাখ পুনি এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. অসীমা তানেজার উপস্থিতিতে করোনার মধ্যে স্তন্যপানের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা উঠে আসে এ আলোচনায়। এতে তারা বলেন-
১. প্রথমেই একটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। অনেকেই মনে করছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আর পাঁচ জনের চেয়ে বেশি। একথা ঠিক নয়।
২. অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হলেও, তার বিশেষ প্রভাব গর্ভস্থ সন্তানের উপর পড়ে না। প্রাথমিক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
৩. মাতৃদুগ্ধে করোনাভাইরাস থাকে না।
৪. গবেষণায় দেখা গিয়েছে বুকের দুধে করোনার সঙ্গে লড়াই করার জন্যে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি রয়েছে, যাকে ইমিউনোগ্লোবিনও বলা হয়ে থাকে। যদি কখনও কোনও শিশু করোনা আক্রান্ত হয়েও পড়ে, তাহলে সংকটের কোনও লক্ষণ এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি।
৫. চিকিত্সকরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন এই আলোচনা সেশনে। তারা জানিয়েছেন, যদি মায়ের করোনা ধরা পড়েও তাতেও তিনি নিশ্চিন্তে শিশুকে স্তন্যপান করাতে পারেন। এতে শিশুর কোনও ক্ষতি হবে না।
