প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিনে তার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
শেষ পর্যন্ত বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে কেবল বিএনপির কয়েকজন নেতা কোকোর কবর জিয়ারত এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন সহ একাধিক নেতাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি কবরস্থানে। কবরস্থানের বাইরে দাঁড়িয়েই কোকোর জন্য মোনাজাত করেন খাইরুল কবির খোকনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আজ কোকোর ৫ তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ’ নেতাকর্মী।
এ সময় বনানী কবরস্থানের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের ভেতরে যেতে বাধা দেন। পরে বিশেষ অনুরোধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক শরফুদ্দিন সপু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ফুল নিয়ে কবরস্থানে প্রবেশ করার অনুমতি পান।
এ সময় তারা কবরস্থানে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। একই সময়ে কবরস্থানের বাইয়ে থাকা অন্য নেতাকর্মী দোয়া ও মোনাজাত করেন।
কবর জিয়ারত শেষে বাইরে এসে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘(পুলিশি বাধার কারণে) আমরা সবাই যে আবেগ নিয়ে এসেছিলাম, সেই আবেগ নিয়ে সবাই কবরস্থানের পাশে গিয়ে দোয়া করতে পারিনি। আমরা আপনাদের পক্ষ থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেছি। আমরা শুনেছি আপনারাও বাইরে বসে মোনাজাত করেছেন।’
এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকে একটি অপরাধ মনে করি। এই বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের একমাত্র উপায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক একটি সরকার ব্যবস্থা।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এমন একটি অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু থাকলে সেখানে জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা থাকে না। ফলে এ রকম বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ সময় কবরস্থানের গেটের বাইরে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাংগঠনিক সম্পাদক সা্হইফ মাহমুদ জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন প্রমুখ।
