বার্সেলোনায় লিওনেল মেসিকে এতটা চাপে পড়তে হয়নি কখনই। যতটা চাপে আজ বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে মুখোমুখিতে পড়তে হচ্ছে তাকে। এমনিতে চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত টিকে থাকা দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নের লড়াই হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অতীতের এবার বায়ার্নের সামনে বার্সেলোনার অবস্থান একটু পিছিয়ে। সম্প্রতি লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে শিরোপা হারিয়েছে বার্সা। মেসি যে ম্যাচে জ্বলে উঠছেন সে ম্যাচ ছাড়া বার্সাকে স্বরূপে না পাওয়া। আর নিজের চেয়ার নিয়ে চাপে থাকা কোচ কিকে সেতিয়েনের ম্যাচ পরিকল্পনা বার্সাকে ফেলে দিচ্ছে চাপে। অন্যদিকে জার্মান লিগ ও কাপ জিতে আত্মবিশ্বাসে ফুটছে বাভারিয়ানরা। তাই আজকের সিঙ্গেল লেগের কোয়ার্টারে প্রশ্ন, ষষ্ঠ শিরোপার পথে বার্সা এগোবে, না তাদের টপকে যাবে বায়ার্ন।
৩৩ বছর বয়সী মেসির ওপর আজকের লড়াইয়ে অতিমাত্রায় নির্ভর বার্সা। আগের যে কোনোবারের চেয়ে তো বটেই। এই মেসির জোড়া গোলে ২০০৯ সালে বায়ার্নকে কোয়ার্টারেই অনায়াসে হারিয়েছিল কাতালানরা। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে থামে দলটি। সর্বশেষ মুখোমুখিতে ২০১৫ সালেও বায়ার্নকে সেমিফাইনালে হারায় বার্সা। সেবারও শিরোপা জিতে তারা। কিন্তু দুবারই ফেভারিট ছিল বার্সেলোনা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
বার্সেলোনাকে এই পরিস্থিতিতেও আশা জাগাচ্ছে নাপোলির বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি। যাতে আক্রমণের দুপাশে আন্তোইন গ্রিজমান ও সুয়ারেজ এবং পেছনে ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং ও সার্জি বুসকেটসকে নিয়ে এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেরা খেলাটা খেলেছেন মেসি। নিজেকে যখন ফিরে পেয়েছেন তাহলে বায়ার্নের সঙ্গে একই পারফরমের পুনরাবৃত্তি কেন নয়। সম্ভবত এই আত্মবিশ্বাসেই গ্রিজমান বলেছেন, ‘বায়ার্ন খুব ভালো খেলছে। তারা সেরা ফর্মে। কিন্তু আমাদেরও ওদের থামানোর অস্ত্র আছে। আমাদেরকে আমাদের শক্তিতে দেখতে হবে। ওরা বেশিমাত্রায় পেশিনির্ভর ফুটবল খেলে আমরা সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমি জানি বার্সা সঠিক পথেই আছে এবং মাঠে আমরা আমাদের খেলা খেলব। বিশ্বাস করি, আমরা নিজেদের খেলা ফিরে পেয়েছি এবং সঠিক খেলাটাই খেলেছি (নাপোলির বিপক্ষে)। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব।’
আজকের ম্যাচে আরেকটি বড় লড়াই আছে। দুদলের দুই পোস্টে দুই গোলরক্ষকের লড়াই। দুজনই জার্মান জাতীয় দলের সদস্য। বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগান ও বায়ার্ন স্টপার ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। আজকের লড়াই দিয়ে দুই সতীর্থ দেখিয়ে দিতে পারেন কে সেরা। এ দুই তারকার লড়াইয়ে অনেকটা মেসি-রোনালদো লড়াইয়ের মতোই। জোয়াকিম লো’র জার্মান দলে সব সময়ের এক নম্বর ন্যুয়ার। কিন্তু স্টেগানও যে তাকে টেক্কা দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন সেটা স্টেগানের দেখানোর পালা এ ম্যাচেই। আর সেটা দেখাতে হবে উড়তে থাকা রবার্ট লেভানডোস্কির সঙ্গে। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৫৩ গোল করেছেন লেভা। এর মধ্যে বুন্দেসলিগায় ৩১ ম্যাচে ৩৪টি। আর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭ ম্যাচে ১৩টি।
