দেশজুড়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় জড়িত থাকায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ডি জে শাকিলকে (৩২) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাকিলকে বৃহস্পতিবার দুপুরে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিষয়টি সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক বলেন, নীতি নৈতিকতা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
১ হাজার ২০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রতারণার দায়ে বগুড়া ডিবি পুলিশ গত বুধবার বিকেলে তাড়াশ উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন নিজস্ব কার্যালয় থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উপজেলা গেটের পাশের সুদৃশ্য অফিস থেকেই শাকিল দেশজুড়ে প্রতারণার নেটওয়ার্ক চালিয়েছেন। তার বাবা কাজী গোলাম মোস্তফা তাড়াশ উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি।
জালিয়াতির অন্যতম এই কারিগর রাব্বি শাকিল ওরফে ডি জে শাকিল উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদও বাগিয়ে নিয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার খাঁ পাড়ায়।
গ্রেপ্তার শকিলের দুই সহযোগী হলেন- আইটি এক্সপার্ট, কুসুন্দি গ্রামের হুমায়ন কবির (২৮) এবং ম্যানেজার নওগাঁর মান্দার গাড়িক্ষেত্র গ্রামের হারুনর রশিদ সাইফুল (২৬)।
এদিকে ডিজে শাকিল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অধিকাংশ সহযোগী গাঁ ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাড়াশ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা ও এলাকাবাসী জানান, যখন যে পরিচয় দিলে কাজ হাসিল হয় নিজেকে সেই পরিচয় দিয়ে গেছেন ডিজে শাকিল। কখনো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনো সাংবাদিক-সম্পাদক। লোকজনকে প্রতারণা ও জালিয়াতির ফাঁদে আটকাতে পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালিয়েছেন ব্যাপক প্রচারণা।
সহজে দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সহজ সরল মানুষের কাছে থেকে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। প্রচার করেছেন, ১৫টি দেশের ৩২টি ব্যাংকের স্বীকৃত ১১৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার রয়েছে চুক্তি। দেশে বেকারত্ব দূর ও উদ্যোক্তা তৈরি করতে তিনি দিচ্ছেন স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা। সর্বনিম্ন ২০ লাখ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগের ঘোষণা দিয়ে তিনি খোলেন ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক লোন সার্ভিস (আইবিএল) সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
তার রয়েছে অনেক গুলো অনলাইন পত্রিকা। যার সব গুলির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার অফিস থেকে দেশের প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের সিলমোহর, লেটার হেড ও সেনাবাহিনীতে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র পাওয়া গেছে । ঋণ পাওয়ার প্রসেসিং খরচ ও অগ্রিম কমিশন, চাকরির বিনিময়ে আগাম টাকা নিয়ে তিনি শত শত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
এ বিষয়ে বগুড়া ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আসলাম আলী বলেন, অভিযানকালে শাকিলের সুসজ্জিত অফিসকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ১ হাজার ২০১ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভুয়া চেক, ৫০টির বেশি টাকার অঙ্ক বসানো ছাড়া স্বাক্ষর করা চেক, সামরিক বাহিনীসহ সরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নিয়োগপত্র ও চুক্তিনামা, জাল স্ট্যাম্প ও ডামি পেপার, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ৬০টি সিম কার্ড, তাদের নিজস্ব পরিচালিত ২২টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের তথ্য ও আইডি কার্ড, দেশের বিখ্যাত কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভুয়া নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১২টি ফেসবুক আইডি, ৩৫টি ফেসবুক পেজ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলসহ চিঠি তৈরির ফরম্যাট,২ টেরাবাইটের একটি হার্ডডিস্ক, প্রিন্টারসহ তিনটি সিপিইউ, তিনটি মনিটর ও পূবালী ব্যাংকে সচল সাতটি ব্যাংক হিসাব।
তিনি আরও জানান, শাকিলের অফিস থেকে পূবালী ব্যাংকের টাঙ্গাইল শাখার তাসবির এন্টারপ্রাইজের নামে ৫০০ কোটি টাকার একটি চেক, জাবের এন্টারপ্রাইজের নামে আরেকটি ৫০০ কোটি টাকার চেক, জনৈক শিহাব উদ্দিন আহম্মেদের নামে ২০০ কোটি টাকার আরেকটি চেক পাওয়া যায়। মোটা অঙ্কের ব্যাংক লোনের আশায় তারিখ ছাড়া জামানত হিসেবে এই চেকগুলো প্রদান করেছেন পূবালী ব্যাংক টাঙ্গাইল প্রধান শাখার গ্রাহক (এসি নং : ০৪৭০৯০১০৪৪৬০৬) রাজলক্ষ্মী ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক তাপস কুমার পাল। মোট উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২০১ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকার চেকের মধ্যে বাকি এক কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকার চেকগুলো অন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের।
এলাকাবাসী বলছেন, প্রতারণায় শাকিলের কাছে রিজেন্টের সাহেদও ফেল। রিশান গ্রুপ অব কোম্পানি ও রিশান নিউজ এজেন্সির চেয়ারম্যান ডি জে শাকিল নিজেকে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে জাহির করতে নিজের জন্মদিনের জমকালো পার্টিও আয়োজন করেছেন। স্থানীয় পত্রিকায় তা প্রচারও করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মোটা অঙ্কের টাকা ডোনেশন দিয়ে তিনি এলাকায় ‘বিশিষ্ট’জনে পরিণত হয়েছেন।
এলাকাবাসী আরও জানায়, শাকিল দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকার পর পাঁচ বছর আগে তাড়াশ সদরে এসে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। উপজেলা পরিষদের গেটে রয়েছে তার ভাড়া করা অফিস। এখান থেকে একাধিক পুকুরের ব্যবসা, একটি ভোগ্য পণ্য উৎপাদন কারখানা, রিশান ব্যাংক লোন সার্ভিস লিমিটেড, রিশান কনসালটিং ফার্ম লিমিটেড, রিশান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেড, রিশান ট্রেডিং করপোরেশন ও মুমু ভিশন অ্যান্ড ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ইতিপূর্বে তাড়াশ থানা ও সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে গেলেও গত পাঁচ বছরে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
এক অভিযোগ থেকে জানা যায়, একটি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে বগুড়ার আমায়রা অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আমানত উল্লাহ তারেক ও অভি অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আশিক দৌলাতানা ডিজে শাকিলের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর মোটা অঙ্কের ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে শাকিল প্রথম দফাতেই তাদের কাছ থেকে কমিশন বাবদ ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর তাদের জানানো হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে তাদের নামে ২ কোটি ৫০ লাখ ও ২ কোটি টাকার পৃথক দু‘টি লোন বরাদ্দ করা হয়েছে। এ কথা বলে তাদের কাছে থেকে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আদায় করে নেয়। এরপর শাকিল তার নিজের অফিসের ই-মেইল থেকে তারেকের জি-মেইলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর লোন শাখার একটি হিসাব নম্বর থেকে ১১/১১/২০১৯ তারিখে ইস্যু করা আমায়রা অ্যাগ্রো ফার্মের নামে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং আশিক দৌলাতানার অভি অ্যাগ্রো ফার্মের নামে একই হিসাব নম্বর থেকে একই তারিখে ইস্যু করা ২ কোটি টাকার চেকের স্ক্যান কপি পাঠান।
এ বিষয়ে তারেক ও আশিক জানান, টাকা উত্তোলনের জন্য তারা শাকিলের কাছে চেকের মূল কপি চাইলে আজ/ কাল করে কালক্ষেপণ করেন। এতে সন্দেহ হওয়ায় আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া শাখায় গিয়ে চেক দু‘টির প্রিন্ট কপি দেখাই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এটা দেখে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বানান ভুল এবং চেক দু‘টি ভুয়া। এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে যুব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও স্যাংশন লেটার ও চেকের স্ক্যান কপি ভুয়া এবং স্বাক্ষর তাদের কর্তৃপক্ষের নয় বলে নিশ্চিত করেন। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে বগুড়া ডিবি পুলিশের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করি।
এক অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ বছরে শাকিলের মিথ্যা প্রচারণা দেখে মোট ৩২৭ জন ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ নিতে তার সাথে যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০০ জনের কাছে থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫ পার্সেন্ট কমিশন হিসাবে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শাকিল। তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের আরিফের কাছ থেকেই নেওয়া হয়েছে ৮৬ লাখ টাকা। রংপুরের পীরগাছার মতিনপুর গ্রামের মীর মামুন অর রশিদের কাছ থেকে নিয়েছেন দু‘টি চেকের মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা। অন্য সবার কাছ থেকেই কমবেশি কমিশন নেওয়া হয়েছে।
এ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতারক শাকিলের সাথে শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী সহযোগী হিসেবে রয়েছেন। শরিফুল নামের পিয়ন পদের ওই কর্মচারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। মূলত বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পাচার ও ভুয়া নিয়োগপত্র ও সব জাল কাগজপত্র তৈরিতে শরিফুল তাকে সহযোগিতা করেন। প্রতিটি জালিয়াতিতে প্রাপ্য টাকার অর্ধেক ভাগ নেন তিনি।
শাকিল গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, সরকারের কোন দপ্তরে কখন কত জনবল নিয়োগ হবে তার তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন শরিফুল। তাদের কাছে রয়েছে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা, নির্বাচন কমিশন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর, কৃষি মন্ত্রণালয়, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, সরকারি কর্ম কমিশন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগের সব কাগজপত্র। বিভিন্ন ব্যাংক সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্থায়ী পদ গুলোতে নিয়োগের তথ্যও তাদের সংগ্রহে রয়েছে। পদ বুঝে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার চুক্তি করেন তারা। এরপর সরকারি চিঠি, সই, সিল হুবহু নকল করে প্রার্থীদের সঙ্গে তারা ছলচাতুরী করে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
শাকিলের অফিস থেকে সরকারি সিলমোহর ও প্যাড ব্যবহার করে তৈরি করা বেশ কিছু ভুয়া নিয়োগপত্র উদ্ধার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর বাঘমারার বাবলুর রহমানের নামে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে মিটার রিডার-কাম মেসেঞ্জারের নিয়োগপত্র, নাটোরের গুরুদাসপুরের আরিফুল ইসলামের নামে বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদের নিয়োগপত্র, বগুড়ার হাজরাদীঘি তেলধাপ গ্রামের নাজেম উদ্দিনের নামে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দপ্তরি কাম-প্রহরীর নিয়োগপত্র, রংপুরের বদরগঞ্জের চাঁদ বাবুর নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র।
এ সব বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল জানিয়েছেন, একেকটি ভুয়া নিয়োগে পাঁচ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন তিনি। প্রতারণা করে নেওয়া এ সব টাকা বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে লাগিয়েছি। এ ছাড়া ফুর্তি করেও অনেক টাকা নষ্ট করেছি। এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনা হচ্ছে।
