একটি চার্চে সমবেত প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টানদের কয়েক হাজার সদস্যের একটি দলের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছে দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এই দলটির মধ্যে করোনার ‘ক্লাস্টার’ সংক্রমণ হচ্ছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিশ্বে যে কয়টি দেশ এখন পর্যন্ত সাফল্য দেখিয়েছে এর মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ কোরিয়া। এ ক্ষেত্রে তাদের মূলমন্ত্র- ‘চিহ্নিত করা, পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসা দেওয়া’।
কিন্তু সম্প্রতি দেশটিতে করোনার দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের বেশির ভাগই রাজধানী সিউল ও পার্শ্ববর্তী গিওনগি’র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকা দুটিতে নানা ধরনের বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে বাসিন্দাদের। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের ধর্মীয় সমাবেশ, অহেতুক ভ্রমণ।
স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় দক্ষিণ আরও ১৯৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে। এই নিয়ে টানা চার দিন তিন সংখ্যার বেশি আক্রান্ত দেখল দেশটি। তাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫১৫ জন। এর আগে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩০-৪০ এর ঘরে।
নতুন ক্লাস্টার আক্রান্তের অধিকাংশেরই সিউলের সারাং জেইল চার্চের সংস্পর্শ রয়েছে। সম্প্রতি এই চার্চে রক্ষণশীল যাজক অনুসারীদের নিয়ে সমাবেশ করেছিলেন। ওই যাজক আবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের ঘোর বিরোধী।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চার্চে সমবেত হওয়া সদস্যদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩১৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে, যা দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিসরের ক্লাস্টার সংক্রমণ।
তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই চার্চে সমবেত প্রায় ৩ হাজার ৪০০ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কিম গ্যাং-লিপ জানিয়েছেন, চার্চে সমবেতদের মধ্যে প্রতি ছয়জনের একজন করোনাভাইরাসে পজিটিভ হচ্ছেন। তাদের মধ্যে দ্রুত পরীক্ষা চালানো হচ্ছে এবং আইসোলেশনে নেওয়া হচ্ছে।
তবে তিনি জানিয়েছেন, চার্চ থেকে সমবেত সদস্যদের যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছে তা ‘সঠিক নয়’। এর ফলে তাদের মধ্যে টেস্ট ও আইসোলেশন প্রক্রিয়া ‘খুব কঠিন’ হয়ে পড়েছে।
