মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দলই চা বাগান শ্রমিক ও বাগান ম্যানেজমেন্টের লোকজনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। দলই চা বাগানের এজিএম খালেদ মঞ্জুর খান গত শনিবার রাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৩ চা শ্রমিক নেতার নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানায় টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেছেন। এ খবরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে চা শ্রমিকদের মধ্যে।
দি সিলেট টি কোম্পানি (দলই চা বাগান কোম্পানি)-র সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খান মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, চা যুবনেতা মোহন রবিদাস ও চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীনের উসকানিতে বাকি আসামিরা চা বাগান ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে নির্ধারিত মজুরির চেয়ে অধিক মজুরি বেআইনিভাবে আদায়ের স্বার্থে বেশ কিছুদিন যাবৎ পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুন আসামিরাসহ উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকরা বাগানে অবৈধ বেআইনি ধর্মঘট করে ব্যবস্থাপককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে জোরপূর্বক বের করে দেয়। পরবর্তী সময়ে গত ১৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে কোম্পানির জিপগাড়ির গতিরোধ করে কাচ ভেঙে জুলাই মাসের বেতন ও মজুরির ১০ লাখ টাকা আসামিরা ছিনিয়ে নেয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিব নারায়ণ শীল (৫৫), তুলশী দাস মাদ্রাজী (৫০), পিংকা কালোয়ার (৫৫), অমৃত কুমার পাশী (৪৬), ফরিদ আলী (৪৫), ইরাজ আলী (২৭), লছমী ভর (৬০), সুদীপ্ত ভর (২৬), ভর (৬০), অজিৎ পাশী (২৫), দিপেন ভর (২৫)। মামলায় ১৪ নম্বর আসামি অজ্ঞতাসহ আর ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়।
মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, বাগান কোম্পানি মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে আমাকে আসামি করেছে।
চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ঘটনার দিন দুই নারী চা শ্রমিককে লাঞ্ছিত করায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ইটপাটকেল মেরে জিপ গাড়ির কাচ ভেঙেছে। এর চেয়ে বেশি কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ সম্পর্কে জানতে মামলার বাদী ও দলই চা বাগান কোম্পানি সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খানের মুঠোফোনে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।
