পুলিশের তদন্তে বাধা দেওয়ায় চেয়ারম্যানসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ০৩:৩১ পিএম

পুলিশের তদন্তকাজে বাধাসহ পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার অভিযোগে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক আহম্মেদ উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চিকন্দী এলাকায় একটি মামলার তদন্ত করতে গেলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও তার ভাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম চিকন্দী গ্রামে সম্প্রতি ভারসাম্যহীন রাজ্জাককে প্রতিবেশী সোহাগ হাওলাদার, ইতি বেগম, ইমা আক্তার ও রহিমা বেগম মারপিট করে জখম করে।

এ ঘটনায় আহত রাজ্জাকের মা করিমনন্নেছা পালং মডেল থানায় অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার বিকেলে বিষয়টি তদন্ত করতে যায় চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. ফারুক আহমেদ।

তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন হাওলাদারের ভাই মোজাম্মেল হাওলাদার বাদী করিমনন্নেছাকে মারধর করেন। পরে পুলিশ মোজাম্মেল হাওলাদারকে আটক করে।

এ সময় চিকন্দী ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফারুক আহমেদ ও এটিএসআই জ্যোতির্ময়কে ধাক্কা ফেলে দিয়ে চেয়ারম্যান ইয়াছিন হাওলাদার তার ভাই মোজাম্মেলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পুলিশের।

এ ঘটনায় চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে চেয়ারম্যান ইয়াছিন হাওলাদার ও তার ছোট ভাই মোজাম্মেল হাওলাদারকে আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এই বিষয়ে চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. ফারুক আহমেদ বলেন, পালং থানার নির্দেশে একটি অভিযোগের তদন্ত করতে এলাকায় যাই। আমার উপস্থিতিতেই চেয়ারম্যানের ভাই বাদিনীকে মারধর করে। আমি চেয়ারম্যানের ভাইকে গ্রেপ্তার করতে গেলে চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ও এটিএসআই জ্যোতির্ময়কে ধাক্কা মেরে  আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন হাওলাদার পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে তার ভাইকে ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বরং পুলিশকে সহায়তা করতে গিয়ে উল্টো আমি ফেঁসে গেছি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, একটি মামলার তদন্ত করতে গেলে চেয়ারম্যান ও তার ভাইরা মিলে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত