মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ।
গত সোমবার মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীদের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মোজাফফর আহমদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের মতো জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনা অকল্পনীয়। একজন এমপির কীভাবে সাহস হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলা করার? সব মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান ও হামলার দায়ে বাঁশখালীর এমপির সদস্য পদ বাতিল করে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হোক।’
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন আমাদের মৌলভী সৈয়দ ভাই। আজ তার পরিবারের ওপর হামলা করছে স্থানীয় সাংসদের অনুসারীরা। এই ঘৃণ্য কাজের নির্দেশদাতা সাংসদের সদস্য পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।
জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম প্রতিবাদকারী প্রয়াত মৌলভী সৈয়দের ভাই মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ গত ২৬ জুলাই মারা যান। পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার ছাড়াই বাঁশখালীর নিজ বাড়িতে তার দাফন হয়। পরদিন গার্ড অব অনার না দেওয়ার প্রতিবাদে বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা মিলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। এতে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার ইন্ধন দেওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনা তদন্তে গত ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর গত ২৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার না দেওয়া ও অসম্মানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠান চলাকালে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ ১৪ জন আহত হন।
হামলার ঘটনায় বাঁশখালীর পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী, এপিএস রাসেল ও তাজুল ইসলামসহ ২৬ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এপিএসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
