ট্রায়ালে কত শতাংশ কার্যকর হলে ভ্যাকসিনের অনুমোদন

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ০৪:১২ পিএম

আর কয়েক মাসের ভেতর অন্তত তিন থেকে চারটি ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফলাফল পাওয়া যাবে। করোনার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিন ওই ট্রায়ালে ঠিক কত শতাংশ মানুষের শরীরে কার্যকর হলে বৈশ্বিক অনুমোদন মিলবে তা নিয়ে এখন চলছে আলোচনা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে কোনো ভ্যাকসিনের দু’টি দিক সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তা হল ভ্যাকসিনের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গেছে, এক বার অথবা চার সপ্তাহের ব্যবধানে দু’বার এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন বিরোধী অ্যান্টিবডি এবং টি-লিম্ফোসাইট কোষ তৈরি হচ্ছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তেমন দেখা যাচ্ছে না।

কিন্তু এখনো তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষ না হওয়ায় তা বাজারে আসতে পারেনি।

অক্সফোর্ড বলছে, কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে করোনাভাইরাস ‘প্রতিরোধী’ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে এই ভ্যাকসিনটির মতোই দেখতে প্যাকেজে মোড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন অন্য কিছু বা ওষুধ দেওয়া হয়েছে (প্ল্যাসেবো)। প্রথম দলটিকে বলা যেতে পারে ভ্যাকসিনপ্রাপ্ত দল এবং দ্বিতীয় দলটিকে বলা হয় নিয়ন্ত্রক দল বা ‘কন্ট্রোল গ্রুপ’। তবে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা কেউই জানতে পারবেন না যে কে ভ্যাকসিন পেয়েছেন আর কে পাননি।

এটি জানতে পারলে মূলত গবেষণায় অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের আচরণগত পরিবর্তন হতে পারে। যার প্রভাব পড়তে পারে গবেষণার ফলাফলে।

অর্থাৎ যিনি ভ্যাকসিন পেলেন, তিনি নিজেকে ‘নীরোগ’ মনে করে কম হাত ধোয়া, মাস্ক না পরাসহ সংক্রমণ রোধের বিভিন্ন পদ্ধতি নাও মানতে পারেন।

আবার যিনি ভ্যাকসিনের মতোই দেখতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ওষুধটি পেলেন, তিনি সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে বেশি করে সতর্ক হতে পারেন।

মডার্নার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এভাবে শেষ ধাপের ট্রায়ালে পঞ্চাশ শতাংশ কার্যকরী ভ্যাকসিন পেলেই যথেষ্ট।

কিন্তু ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের বিজ্ঞানী নরেন্দ্র কে মেহরা বলছেন, ভ্যাকসিন যে প্রতিষ্ঠানই আনুক না কেন তার কার্যকারিতা কমপক্ষে ৭০ শতাংশ হতে হবে। না হলে তাতে কোনো লাভ হবে না!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত