নারী শ্রমিকের অনুদান: বিজিএমইএর আপত্তি পর্যালোচনা করবে আইএলও

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩১ এএম

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছাঁটাই রোধে ৪০ হাজার নারী ও প্রতিবন্ধী পোশাক শ্রমিককে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা অনুদান দিতে চায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে একটি বৈঠক করেছে তারা। তবে ওই টাকা গ্রহণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক এ সংগঠনটির দেওয়া শর্তসমূহ ও শ্রমিক ছাঁটাই সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে আপত্তি তুলেছে পোশাক মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

আইএলও কারখানা মালিকদের আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও অন্যান্য দাতা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

বিজিএমইএর পরিচালক ও আইএলওর এ প্রকল্পে বিজিএমইএর প্রতিনিধিত্বকারী রেজওয়ান সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বৈঠকে আমাদের আপত্তির কথাগুলো আইএলওকে জানিয়েছি। আইএলওর দেওয়া নথিতে যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলোও আমরা উপস্থাপন করেছি। সংগঠনটি আমাদের জানিয়েছে, তারা এগুলো পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে আমাদের আপত্তিগুলো ইইউ ও সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থাগুলোকে জানাবে। এরপর ওরা আবারও আমাদের নিয়ে একটি বৈঠক করবে।

অনুদান বিষয়ে আইএলওর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ পুরুষ ও ৪৬ শতাংশ নারী।

তারা বলছে, করোনাকালীন দেশের ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই করোনায় চাকরি হারানো নারী ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের মধ্য থেকে ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন ধরে ৪০ হাজার সুইং অপারেটরকে এক মাসের জন্য ৪০ শতাংশ বেতন সহায়তা দিতে চায় তারা। অর্থাৎ শ্রমিকপ্রতি তারা ৩ হাজার ২০০ টাকা এককালীন অনুদান দেবে।

আইএলও মনে করছে, এ অর্থের কারণে শ্রমিক ছাঁটাই ঠেকানো সম্ভব হবে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মাধ্যমে এ টাকা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব/মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে হবে। আইএলও প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, দেশে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কারণে অসন্তোষ চলছে। কারখানা মালিকরা এ টাকা দিয়ে কিছু শ্রমিককে ফিরিয়ে আনতে পারবে/নতুন করে শ্রমিক ছাঁটাই অনেকটা বন্ধ হবে।

কারখানা মালিকরা বলছেন, নানা শর্তে আবদ্ধ এ সামান্য টাকা তাদের কোনো কাজে আসবে না। উল্টো পরবর্তী সময়ে এ টাকার অজুহাতে আইএলও তাদের ওপর অন্য কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে। করোনাকালীন যেসব শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে তাদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা দিয়েই ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এছাড়া যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা কেউ এখন আর ওই কারখানার শ্রমিক না। তাই এসব শ্রমিকের অনুদানের টাকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব মালিকরা নিতে রাজি নন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত