বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হবে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের। শনিবার দুপুরে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধ রোগীদের দেখতে এসে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকটি রোগীকে দেখেছি। আহতদের বেশির ভাগই ৬০ শতাংশের ওপরে দগ্ধ। বাকি ৫-৬জন এর একটু কম দগ্ধ। তাদের নিয়ে আমরা আশাবাদী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাত থেকে একাধিকবার ইনস্টিটিউটের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন, খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।”
এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, “ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করছে। তাদের পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোও তদন্ত করে দেখছে। আমরা জানতে পেরেছি— তারা চিহ্নিত করতে পেরেছে কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। গ্যাস পাইপের কোন জায়গা থেকে লিক হয়েছে সেটিও তারা চিহ্নিত করেছে। তবে আরও তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে ঘটনার কারণ সম্পর্কে। আপনারা দ্রুততার সঙ্গে এ সব জানতে পারবেন।”
এ সময় ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, “এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় প্রায় সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি পোড়ার কারণে বাকি যারা আছে তাদের অধিকাংশের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আমরা তাদের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় নারায়ণগঞ্জের তল্লায় অবস্থিত বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৪০ জনের বেশি মুসল্লি দগ্ধ হন। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে। জানালার কাচ উড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও গ্যাস থেকেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন।
দুর্ঘটনার পর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি জানান, মসজিদের সামনের গ্যাসের লাইনে লিকেজ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে এসি চালানোর সময় জানালা বন্ধ থাকায় ওই গ্যাস ভেতরে জমা হয়ে যায়। হঠাৎ কেউ বৈদ্যুতিক সুইচ অফ-অন করতে গেলে স্পার্ক থেকে এই বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে।
মসজিদের মেঝের নিচ দিয়ে গ্যাসের লাইন গেছে। পানি দেওয়ার সময় বুদ বুদ করে গ্যাস বের হচ্ছিল। আমরা ধারণা করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা দ্রুত এখানে এসে আমাদের ধারণাকে নিশ্চিত করে। তারা জানান, গ্যাসের লাইন থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।
