প্রণব মুখার্জি ও দুই এমপির মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৩২ পিএম

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এবং একাদশ জাতীয় সংসদের দু’জন সংসদ সদস্য (এমপি)সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রবিবার সংসদে এ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন এবং নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে মহান জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে।

প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে মহান জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে। শোক প্রস্তাবে বলা হয়, ভারত এবং বাংলাদেশের জনগণের অকৃত্রিম শুভাকাঙ্ক্ষী, দেশপ্রেমিক চিরভাস্বর এই মহান নেতাকে বাংলাদেশের জনগণ চিরকাল স্মরণ করবে। তিনি তার আদর্শ ও কর্মের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে একান্ত আপনজন হয়ে বেঁচে থাকবেন।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজ, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লে. কর্নেল (অব.) এইচএমএ গাফফার বীর উত্তম, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আবুল কাশেম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য টিএম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক হুইপ মো. আশরাফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, সাবেক এমএনএ ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আ ন ম নজরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মো. নূরূল হক, সাবেক সংসদ সদস্য এটিএম আলমগীর, সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান উদ্দিন ভূইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য ড. শাহজাহান আলী তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) সাইফুল আযম, সাবেক সংসদ সদস্য কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শামছউদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত, মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও সিলেট নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, প্রতিরক্ষা সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, আইন ও বিচার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব নরেন দাস, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাহাত খান, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আছাদুজ্জামানের স্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামানের মাতা মাগুড়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বেগম মনোয়ারা জামান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল, একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসংগ্রামী ডাক্তার সাঈদ হায়দার, একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য সঙ্গীতব্যক্তিত্ব সুরকার আলাউদ্দিন আলী, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, ভাস্কর মৃণাল হক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রযোজক ও জিএম মোহাম্মদ বরকতউল্লাহ, রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ও তার ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে এসি বিস্ফোরণে মৃত্যুবরণকারীসহ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে-বিদেশে যে সব গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং ভারতের কেরালার কোঝিকোড় বিমানবন্দরে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে মহান জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

এর আগে চলতি সংসদের সদস্য মরহুম অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও ইসরাফিল আলমের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সরকারি দলের আবদুল মতিন খসরু, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শাহজান খান, শহীদুজ্জামান সরকার, শামসুজ্জামান দুদু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা এবং বিএনপির হারুনুর রশীদ।

আলোচনা শেষে উত্থাপিত শোক প্রস্তাব সর্বসম্মভাবে গৃহীত হয়।

এছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। এর আগে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী দিনের অন্যান্য কর্মসূচি স্থগিত করে অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত