সিলেটে আ.লীগ কমিটি: জেলা ও মহানগর নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫১ পিএম

সম্মেলনের দীর্ঘ ৯ মাস পর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই দুই শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন তারা। দলের জন্য ত্যাগী, সৎ ও নিষ্ঠাবান নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতাদের মন জয়ে তারা তৎপর। কমিটি গঠনকে সামনে রেখে দলের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রস্তুতির খবরে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়াই সমঝোতার ভিত্তিতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চার নেতার নাম ঘোষণা করেন।

জেলা শাখার তখনকার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানকে সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রনেতা নাসির উদ্দিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েন সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

আর মহানগর শাখার সভাপতি পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী সাবেক সিটি মেয়র সদ্য প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বাদ পড়েন। নতুন সভাপতি হন মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন। পরিবর্তন আসে সাধারণ সম্পাদক পদেও। আসাদ উদ্দিনকে বাদ দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় অধ্যাপক জাকির হোসেনকে। এই চার নেতাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

কিন্তু দীর্ঘ ৯ মাসেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে পাঠাতে পারেননি। অবশেষে গত বুধবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ওই সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটসহ সারা দেশে সম্মেলন হওয়া জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কেন্দ্রের এই নির্দেশনা পেয়ে এখন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার কারণে কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এই করোনাকালেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

তিনি জানান, প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়েই নতুন কমিটি হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণ হিসেবে করোনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সীমিত পরিসরে বিভিন্ন বৈঠকের মাধ্যমে কমিটি পূর্ণাঙ্গের কাজ বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। এ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।

তিনি বলেন, দলের ত্যাগী, সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতারাই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাবেন। প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। সুযোগ পাবেন সম্ভাবনাময় তরুণ নেতারাও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত