করোনার বিল ৪০ লাখ, রোগীর জন্য সুপারিশ করে বিপাকে স্বাস্থ্য কমিশন

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৬ এএম

করোনা চিকিৎসায় এক রোগীর বিল এসেছিল ৪০ লাখ টাকা। পরিবারের অপারগতায় বিল কমাতে সুপারিশ করে স্বাস্থ্য কমিশন, ছাড়িয়ে আনে রোগীও। এখন তারাই পড়েছে বিপাকে। ঘটনার ভারতের।

প্রথমে অভিযোগ ছিল বকেয়া টাকা না দিলে হাসপাতাল রোগী ছাড়ছে না। সে রোগীকে ছাড়িয়ে এনে মহা ফাঁপরে স্বাস্থ্য কমিশন। বকেয়া বিল মেটানোর জন্য তাদের কাছেই হাত পাতল রোগীর পরিবার।

স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রোগীর পরিবারের কাছ থেকে হাসপাতাল ১৯ লাখ রুপি পায়। তাদের অনুরোধে যদি পাঁচ লাখ রুপি হাসপাতাল কমিয়েও দেয়, বাকি টাকা দিতে অপারগ রোগীর পরিবার। তারা স্বাস্থ্য কমিশনের কাছেই সাহায্য চাইছে।

এ দিকে রোগীর বকেয়া বিল মেটানোর মতো কোনো নিয়ম নেই স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের আইনে।

১২ জুন করোনা নিয়ে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন আইনজীবী অলোককান্তি ন্যায়বান। কভিড ছাড়াও তার শরীরে অন্যান্য সমস্যা ছিল। টানা ৭৭ দিন চিকিৎসার বিল হয় সাড়ে ৩৫ লাখ রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৪০ লাখ টাকার বেশি। কোনোরকমে ১৬ লাখ রুপি দিয়েছেন অলোককান্তির স্ত্রী মধুমিতা ন্যায়বান।

এরপরই অভিযোগ আসে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনে। মধুমিতা বলেন, “বিল বাকি থাকার জন্য হাসপাতাল আমার স্বামীকে ছাড়ছে না। সমানে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ব্যবস্থা নিন।” তড়িঘড়ি অলোককান্তিকে হাসপাতাল থেকে বের করে আনে স্বাস্থ্য কমিশন। কিন্তু তারপর তাদের কাছেই অভিযোগকারীর আরজি, “একটু সাহায্য করুন।” কিন্তু বকেয়া বিল মেটানোর এখতিয়ার কমিশনের নেই।

চাইলে হাসপাতাল আইনের পথে হাঁটতেই পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। যদিও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, তারা এমন কিছু করবেন না যাতে কোনো রোগীর পরিবার বিপাকে পড়ে।

এ দিকে টানা ৭৭ দিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে রোগীর সারা শরীরে বেডসোর হয়ে গিয়েছে। দেখা গিয়েছে সামান্য মানসিক সমস্যাও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত