আমি কখনো কাজের বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত আলাপ করি না: অমিতাভ রেজা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫১ পিএম

আমি অমিতাভ রেজা চৌধুরী।

বছর কয়েক ধরে আমার নামে ঘটতে থাকা সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখছি।
আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি, যেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আমি এখন আপনাদের সাথে যোগাযোগ করছি, এই অ্যাকাউন্ট ছাড়া আমার অন্য কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নাই। এই অ্যাকাউন্টটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভেরিফাইড / যাচাইকৃত অ্যাকাউন্ট।

বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমার নাম এবং পরিচিতি ব্যবহার করে ফেসবুকে বিভিন্ন ফেইক/ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে এবং তারা এইসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন প্রকার সাইবার অপরাধ করে যাচ্ছে। এসব অপরাধের মধ্যে অন্যতম হলো, বিভিন্ন নারীকে মিথ্যে পরিচয়ে কাজের/অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া।

ভুয়া অ্যাকাউন্ট চালানো লোক বা লোকেরা একটা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানতে পেরেছি বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে। ভুয়া অ্যাকাউন্ট চালানো লোক/লোকেরা মূলত বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য ভিডিও কল দিয়ে থাকে। ভিডিও কলে কোনো অডিও কথোপকথন থাকে না। কয়েক সেকেন্ডের সেই ভিডিও কলে মূলত অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে আমার পূর্বে ধারণ করা ভিডিও দেখানো হয়। এক ভুক্তভোগী এই ভিডিও প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে স্ক্রিনশট আমাকে দেখালে আমি বুঝতে পারি এটা আমার পূর্বে ধারণ করা ভিডিও । এ থেকে আমি ধারণা করছি, বিভিন্ন সময়ে আমার করা লাইভ ভিডিও সংরক্ষণ করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট চালানো লোক/লোকেরা সেই ভিডিও ফেসবুক মেসেঞ্জারের ভিডিও কলে প্রদর্শন করে। এ থেকে ভুক্তভোগী নারীগণ বিভ্রান্ত হন ও মনে করেন ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো আমারই অ্যাকাউন্ট। যেহেতু ভুক্তভোগীরা প্রতিদিন আমাকে দেখছেন না, তাই আমার পূর্ববর্তী কোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে উনাদের সাথে প্রতারণা করা সহজ। ভুয়া অ্যাকাউন্ট চালানো লোক/লোকেরা এই কৌশলটি বেশ কয়েক বছর ধরেই অবলম্বন করছে বলে আমার ধারণা। যে ভিডিওটি প্রতারক প্রায় ব্যবহার করেন(বিভিন্ন ভুক্তভুগীর স্ক্রিনশট দেখে আন্দাজ করি ) তার একটা লিংক সংযুক্ত করা হল- https://www.facebook.com/amitabhrezadirector/videos/10157409849095375/

বিভিন্ন সময়ে পরিচিতজনদের কাছে থেকে এই বিষয়ে জানতে পেরে আমি আমার প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পাতা থেকে ভুয়া অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বছরখানেক ধরে বেশ কয়েকবার জানিয়েছি যা Half Stop Down এর পেজ এ এখনো বিদ্যমান। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, আমি কখনো কাজের বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত আলাপ করি না। যে কোন কাজের ব্যাপারে কর্ম উৎসাহীদের জন্য অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে। অফিসে এ সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন। আমাদের অফিসে যে কোন কাজ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই সম্পন্ন হয়।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে আমার ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টের লিংক সংযুক্ত করা হল।
https://www.facebook.com/amitabhrezadirector

নিচে আমার প্রতিষ্ঠান হাফ স্টপ ডাউনের ফেসবুক পাতা থেকে প্রকাশিত বার্তাটির ইউআরএল (URL) করা হল।
https://www.facebook.com/Halfstopdown/posts/1072105706311813

পূর্বে যেসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, সে সব এর স্ক্রিনশটও দেওয়া হল।

গতকাল (বুধবার) অন্য এক ভুক্তভোগী তার সাথে সংঘঠিত একই অপরাধের বিষয়ে ফেসবুকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি যথারীতি এই প্রতারণা শিকার হয়েছেন এবং সেই মর্মে তার বক্তব্য পেশ করেছেন।

আমি অনুরোধ করবো, দয়া করে অপরিচিত কেউ আমার সাথে যোগাযোগের জন্য আমাকে আমার ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজবেন না। যেহেতু ফেসবুকে আমার নামে খোলা ভুয়া অ্যাকাউন্টে সয়লাব, তাই অনেকেই এ থেকে প্রতারিত হচ্ছে। তারা প্রতারিত হয়ে নিজেরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন, আমারও মানহানি হচ্ছে। বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

যে কোন প্রকার যোগাযোগের জন্য আমার অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে। সেখানেই যোগাযোগ করবেন।

আমি ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগে জানিয়ে রেখেছি।
সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।

কিছু অনুরোধ:

১। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রশাসন বন্ধুদের প্রতি আমার অনুরোধ আমার নামে ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট ছাড়া বাকি সব ফেইক প্রফাইল বন্ধ বা ব্লক করতে সহায়তা চাচ্ছি। অপরাধীকে খুঁজে বের করার অনুরোধ করছি।

২। শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি- (পক্ষ ১) যিনি বা যারা ভুক্তভোগী ও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে কথা বলছেন এবং (পক্ষ২) আমি, অমিতাভ রেজা চৌধুরী ,দাবি করছি ভেরিফাইড/ তথা যাচাইকৃত অ্যাকাউন্ট ছাড়া আমার অন্য কোন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নাই উভয় পক্ষের প্রতি কিছু লেখার সময় সংবেদনশীল আচরণের অনুরোধ করছি।

৩। ফেসবুকে আমার ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে কাজের বিনিময়ে অপ্রীতিকর কথা হয়েছে এমন দাবি যারা করছেন অনুগ্রহপূর্বক প্রমাণসহ দাবি করবেন অন্যথায় তা আমার মানহানি করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে।

৪। অন্য কোনো অ্যাকাউন্টের দায়ভার আমার না বরং যারা ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট ছাড়া আমি ভেবে প্রতারকের সাথে কথা বলছেন তারা তাকে/তাদের প্রতারণার সুযোগ ও সাহস দিচ্ছেন যা আপনার এবং আমার মানহানীর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

৫। যে কোনো বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে কিছু শেয়ার বা কমেন্ট অন্য কারো বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। সচেতন হন।

[ফেইসবুক থেকে নেয়া।]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত