প্রাগৈতিহাসিক কালের বৃহৎ স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে ম্যামথ ছিল অন্যতম। বর্তমানে আমরা যে হাতি দেখি, এরা তাদেরই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পূর্বপুরুষ।
সেই ম্যামথের কঙ্কাল উদ্ধার হলো মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে এক নির্মাণস্থল থেকে। জায়গাটিতে মেক্সিকো সিটির বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে নির্মাণ কাজ চলছে।
সেখানে একটি বিল্ডিং তৈরি করার জন্য মাটি খোঁড়া হচ্ছিল। মাটি খোঁড়ার সময় নির্মাণ শ্রমিকরা প্রথমে কিছু বড় আকারের হাড়গোড় দেখতে পেয়ে প্রশাসনকে জানায়। পরে খবর পেয়ে বিজ্ঞানীরা চলে আসেন ঘটনাস্থলে।
বিজ্ঞানীরা দেখেন, এগুলি কোনও বড় পশুর হাড়গোড়। তারা পরীক্ষা করে জানান, এগুলি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ম্যামথের কঙ্কাল।
বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে ম্যামথের কম-বেশি কঙ্কাল উদ্ধার হলেও এক সঙ্গে এতো সংখ্যক কঙ্কাল কোথাও উদ্ধার হয়নি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমেরিকা বা সাইবেরিয়াতেও প্রচুর ম্যামথের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, নির্মাণস্থলের প্রায় ২০০টি জায়গায় মাটির নীচ থেকে ১০০-রও বেশি ম্যামথের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। এটিই এখনও পর্যন্ত ম্যামথ-কঙ্কালের সব থেকে বড় ক্ষেত্র।
তবে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়ের মধ্যে শুধু যে ম্যামথই রয়েছে তা নয়, সঙ্গে তুষার যুগের আরও কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর কঙ্কালও মিলেছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদ রুবেন মানজানিল্লার নেতৃত্বে এখানে কাজ করছে গবেষকদের একটি দল। তিনিই এক সঙ্গে এতো ম্যামথ ও অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর কঙ্কাল পাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।
রুবেন জানিয়েছেন, প্রায় ২৪ হাজার বছর আগে এই এলাকায় বৃহদাকার পশুগুলি দল বেঁধে এসে পৌঁছায়। এই এলাকার ঘাস অন্যান্য গাছপালা এবং হ্রদের উপস্থিতি তাদের আশ্রয় তৈরি করতে সাহায্য করে।
রুবেন বলেন, এই জায়গাটি পশুদের কাছে স্বর্গের মতো ছিল। বরফ গলে যাওয়ার পর ম্যামথ ও সেই সঙ্গে প্রাচীন প্রজাতির উট, ঘোড়া, মহিষের মতো প্রাণীরা এখানে বসবাস শুরু করে। তুষার যুগের পর সেখানে বিস্তীর্ণ কর্দমাক্ত এলাকাও সৃষ্টি হয়।
কর্দমাক্ত এলাকায় যাতায়াতের ফলে বড় বড় পশুরা কাদা জমিতেও নেমে পড়ত। আর কাদায় নেমে এক প্রকার ফাঁদে পড়ে যায় তারা। আর সেখানেই এক সময় মারা যেতে থাকে।
রুবেন জানিয়েছেন, ধারণা ছিল বিশ্বে কোথাও না কোথাও এক সঙ্গে অনেক ম্যামথের কঙ্কাল খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে তার পরিমাণ যে এত হবে, সেটা তারা কল্পনাও করেননি।
এখন বিমানবন্দরটির মূল টার্মিন্যালের কাছে ম্যামথের একটি জাদুঘরের মতো তৈরি করে কঙ্কাল প্রদর্শনীর ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রুবেন।
