ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম আযাদ এর বিরুদ্ধে গরিব ও অসহায় মানুষের প্রাপ্য সরকারি বিভিন্ন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তার এসব দুর্নীতির বিষয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর এক নারী তার বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের কথা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যর অপসারণও দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বান্নাল গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের স্ত্রী জবেদা খাতুন ২০১৯ সাল থেকে বয়স্ক ভাতার সুযোগ পান। তার বয়স্ক ভাতার বইয়ে লেখা (নম্বর ০৬০৯৫২/১) ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিন হাজার টাকা বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ কুশুরা ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম আযাদ জবেদা খাতুনকে মাত্র এক হাজার টাকা দিয়েছেন। একইভাবে প্রতিবেশী মৃত কাশেম আলীর স্ত্রী নছিমন বেগমকে এক হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন ওই মেম্বার। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আকারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন জবেদা খাতুন।
সরেজমিনে ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বান্নাল গ্রামের মরণ চন্দ্র সরকারের বয়স্কা ভাতা এবং মৃত জয়নাল আলীর প্রতিবন্ধী ছেলে জাবেদ আলীর তিন হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাৎ করেছেন। একপর্যায়ে গ্রামের অনেকেই অভিযোগ করতে থাকেন ইউপি সদস্য আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সেলিম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, দুলাল হোসেনসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, মেম্বার আবুল কালাম আযাদ এলাকার দরিদ্র, অক্ষম, ও অসহায় মানুষগুলোর বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি সব ভাতার টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করছেন। তারা বলেন, আমরা ওই দুর্নীতিবাজ মেম্বারের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
লিখিত অভিযোগকারী জবেদা খাতুন বলেন, মেম্বার আবুল কালাম আযাদ আমার বয়স্ক ভাতার বই নিয়ে যায় এবং পরে আমাকে এক হাজার টাকা দেয়। কিন্তু আমার বইয়ে তিন হাজার টাকা লেখা রয়েছে। আমি ইউএনও স্যারের কাছে বিচার চেয়েছি।
এসব দুর্নীতির বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কুশুরা ইউপি’র ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালামের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত রহমান বলেন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীর ভাতা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছি।
এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন, ইউপি সদস্য আবুল কালামের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ এর লিখিত অভিযোগটির শুনানি করা হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
