নারায়ণগঞ্জের সেই মসজিদের সামনে ৩৭ টি অবৈধ পানির লাইন

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০১ এএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের তদন্ত কমিটির খোঁড়াখুঁড়িতে ওয়াসার ৩৭টি ‘অবৈধ’ পানির লাইন পাওয়া গেছে। যেগুলোর সংযোগ ওয়াসা বা সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত কি-না তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির খোঁড়াখুঁড়িতে ওই ৩৭টি পানির লাইন বিচ্ছিন্ন হলে তা ‘অবৈধ’ বলে শনাক্ত হয়। আর পানির লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গত দুই দিন ধরে দুর্ভোগ পোহালেও এসব লাইন ব্যবহারকারীদের কেউই স্বীকার করেননি কোনটি কার লাইন।

এদিকে ওয়াসার কর্মচারীরা এসব লাইন বিচ্ছিন্নের খবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে দিলে তারা এসে পাইপগুলো পুনরায় প্রতিস্থাপন করেছে।

ঘটনাস্থলে থাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেখানে ৩৭টি পানির লাইন পাওয়া গেছে। যেগুলোর প্রতিটি বিভিন্ন বাড়িতে সংযোগ নেওয়া হয়েছে বলে দেখা গেছে। কিন্তু লাইনগুলো কেটে যাওয়ার পরও আমাদের সামনে কেউ এগিয়ে আসেনি সংযোগ ঠিক করার জন্য। তাই আপাত দৃষ্টিতে বোঝা যাচ্ছে এগুলো অবৈধ লাইন হতে পারে।’

ওয়াসার এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ওয়াসার দায়িত্ব এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের হাতে। তাই বিষয়টি সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী আজগর আলীকে জানানো হয়েছে।’

ওয়াসার শ্রমিকরা জানান, গত সোমবার থেকে তিতাস গ্যাসের শ্রমিকরা গ্যাসের লাইন খুঁজতে গিয়ে পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। ওই লাইন মেরামত করতে গিয়ে ওয়াসার শ্রমিকরা ৩৭টি বাড়ির পানির লাইনে সমস্যা দেখতে পান। কিন্তু এসব লাইন কাদের বাড়িতে গিয়েছে কেউ জানাতে আসেননি। তাই যাতে ময়লা পানি না ঢুকে সেজন্য লাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী আজগর আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলাকার লোক বলছে লাইনগুলো বৈধ, আর অনেকে বলছে অবৈধ। তবে চেক না করে বলা যাবে না লাইনগুলো বৈধ নাকি অবৈধ। তবে লাইনগুলো কাটা পড়ার পর এগুলো দিয়ে ময়লা ঢুকছিল। তাই বৈধ-অবৈধর বিষয়টি না তুলে কাটা লাইনগুলো সংযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আগামীকালের মধ্যে সবগুলো লাইন চেক করব।’

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিতাসের বিরুদ্ধে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠলে তিতাসের একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি গ্যাসের সঠিক উৎস সন্ধানে মসজিদের উত্তর ও পূর্বপাশে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করলে ওয়াসার পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত